পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর কামরুন্নাহার কলি নামে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর টুকরো করা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
কামরুন্নাহার কলি কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে মায়ের হাতে বাজারের ব্যাগ দিয়ে বাড়ির পাশে যায় সে। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি।
পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কলির পরা স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তারা। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পর বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালায় পরিবার। মঙ্গলবার পাবনা শহরে শিশুটির স্বজন ও সহপাঠীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।
এর এক দিন পর বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, ‘আমার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করল—তা জানতে চাই। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
দেশবার্তা/এমআর