অপুষ্টির কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশবার্তা প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য

দেশে হাম পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পেছনে দীর্ঘদিনের টিকাদান ঘাটতির পাশাপাশি শিশুদের অপুষ্টিও বড় কারণ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন

2026-09-26T12:18:51+06:00
2026-09-26T12:18:51+06:00
রোববার ● ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
স্বাস্থ্য
হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬
অপুষ্টির কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম 
⏲

দেশে হাম পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পেছনে দীর্ঘদিনের টিকাদান ঘাটতির পাশাপাশি শিশুদের অপুষ্টিও বড় কারণ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা হাম আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় চলে যাচ্ছে। দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সরকারকে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম ধাপে ইউনিসেফের নির্ধারিত তিন ধাপে ১৮ জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরে ঢাকা ও আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই গত ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির কারণে দেশে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক। এর ফলে একটি পরিবারের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি নেমে আসে।

অপুষ্টিতে বাড়ছে জটিলতা

হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির সমস্যা দেখা যাচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের মতে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা হাম আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় চলে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা ব্যয়ে বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান তিনি। স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন নিতে না পারা শিশুদের এ পদ্ধতিতে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে অনেক শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে টিকা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে টিকা পেয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশু। দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধান থাকায় বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এরপর প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন করে ক্যাচআপ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউনিসেফ ১০ দিনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে। আগের মজুতের সঙ্গে নতুন টিকা মিলিয়ে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে ক্যাচআপ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন জন্ম নেওয়া শিশু এবং ২৪ লাখ আগে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশু রয়েছে।

ইউনিয়নে ক্যাম্প, সন্ধ্যার পরও টিকা

শনিবার থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ক্যাম্প স্থাপন করে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রতিটি উপজেলায় প্রশাসন, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কর্মজীবী মায়েদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ছুটির দিনেও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পরও টিকাদান কার্যক্রম চলবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান কর্মসূচি শেষে প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা মজুত থাকবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ৪৩ লাখ ডোজ টিকা বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি চালিয়ে যেতে এসব টিকা সংরক্ষণ করা হবে।

দেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মহামারি ও জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাকালেও চিকিৎসকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে অন্য শিশুরাও সহজে সংক্রমিত হতে পারে। তাই টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

দেশবার্তা/এমআর


সর্বশেষ সংবাদ 

বনানীর বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
সারা দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
প্রতিনিধি সভার আবেদন করেছিল জাসদ, পুলিশ বলছে ‘জানা নেই’
ভাড়ানৈরাজ্য ঠেকাতে সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি
পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এস্কেভেটরের চাপায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

সর্বাধিক পঠিত 

মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৪ জনের সন্ধান মেলেনি
চট্টগ্রাম ওয়াসার ডিএমডি হলেন এ্যাব নেতা ইঞ্জিনিয়ার আতিকুজ্জামান বিল্লাহ
ঢাকায় সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের প্যানেল পরিচিতি ও মতবিনিময়
দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাগেরহাট পৌর যুবদলের বিক্ষোভ
দ্বৈত আচরণের শিল্পীদের কোনো মূল্য নেই: ভাবনা
স্বাস্থ্য- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]