ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডে ভেজাল মদ পানে গত দুই দিনে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মোককচুং জেলায় ৮ জন ও তুয়েনসাং জেলায় ১১ জন মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ মদের উৎস ও সরবরাহ চক্র শনাক্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই বাংল্যাং চ্যাংয়ের নেতৃত্বে গঠন করা এই বিশেষ তদন্তকারী দল মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ভেজাল মদের উৎস, উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে।
মোককচুং জেলা পুলিশ জানায়, মাঙ্গকোলেম্বা ও আশপাশের এলাকায় ভেজাল মদ পানের পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে।
এর আগে ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর তুয়েনসাং জেলায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তিরা অসুস্থ হওয়ার আগে মদ পান করেছিলেন। তাঁদের শরীরে ঝাপসা দেখা, তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ ছিল।
তবে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত হতে রক্তের নমুনা গুয়াহাটির ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত ভেজাল মদই মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ কি না- সে বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘নাগাল্যান্ড মদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ আইন, ১৯৮৯’ অনুযায়ী ১৯৯০ সালের এপ্রিল থেকে রাজ্যটিতে মদ তৈরি, বিক্রি, সংরক্ষণ ও পান সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
সার্বিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে যেকোনো অপরিচিত, অনুমোদনহীন বা সন্দেহভাজন উৎসের মদ পান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। মদ পানের পর অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশবার্তা/একে