সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের আনন্দ বাড়াতে প্রতিটি মণ্ডপে সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করার ঘোষণা দেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যশোর জেলা কালেক্টরেটের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিশেষ প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আশেক হাসান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে। বিশেষ করে শেষ রাতের সংবেদনশীল সময়ে বিচ্ছিন্ন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য বিশেষ নজরদারি বজায় রাখতে হবে।
সভায় জানানো হয়, এ বছর যশোরের আটটি উপজেলায় মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৭০৯টি। অর্থাৎ এবার ২৮টি মণ্ডপ বেড়েছে। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন।
নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘ভোররাত থেকে সকালের সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। দীর্ঘ সময় জেগে থাকার কারণে দর্শনার্থী, আয়োজক ও দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ সময় কিছুটা ক্লান্ত থাকেন। দুষ্কৃতকারীরা এই সুযোগটিকে কাজে লাগানোর অপচেষ্টা চালাতে পারে। তাই পূজা আয়োজক কমিটিকে এই নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাই-রোটেশনে শিফট মেপে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
দুর্গোৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে বিশেষ তল্লাশি চালানো এবং নিয়মিত টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে এবং মাদক, অস্ত্র কিংবা পটকাবাজির প্রবেশ রোধ করা যায়, সে জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশকে কঠোর সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের সময়সূচি পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে সভায় জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা অপপ্রচার রোধে অভিনব উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো প্রতিরোধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ সব বৈধ ছাত্র সংগঠনের তরুণদের যুক্ত করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে সব বৈধ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থেকে আয়োজকদের সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট ও জাতীয় অর্থনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী এবার আলোকসজ্জা সীমিত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রক্ষা করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রবাসীদের রক্তঘাম করা উপার্জন এবং গার্মেন্টস কর্মীদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে জ্বালানি কিনতে হয়। তাই দীর্ঘ পথ জুড়ে আলোকসজ্জা না করে তা কেবল মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষসহ জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, যশোরের আবহমান ঐতিহ্য ও সম্প্রীতি রক্ষা করে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবার নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ