ভারত নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন হরমনপ্রীত কৌর। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন সংস্করণেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। সোমবার গুয়াহাটিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পর্যালোচনা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসেছে তার এই সিদ্ধান্ত।
বৈঠকে হরমনপ্রীতের সঙ্গে ছিলেন সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ও প্রধান কোচ অমল মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল হরমনপ্রীতের অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ এবং কোচ হিসেবে মজুমদারের অবস্থান।
হরমনপ্রীতের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এ বছরের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই আসরে নকআউট পর্বেই উঠতে পারেনি ভারত।
এরপর অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নারী এশিয়া কাপ জেতার পর জাপানে এশিয়ান গেমসেও স্বর্ণপদক জেতে ভারত। টানা দুই শিরোপার পরও অধিনায়কত্ব নিয়ে বিসিসিআইয়ের ভাবনায় পরিবর্তন আসেনি।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক ডায়ানা এডুলজি হরমনপ্রীতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এটি ভালো সিদ্ধান্ত। এতে নতুন অধিনায়ক ও দল তার নেতৃত্বে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পাবে।’
হরমনপ্রীতের খেলোয়াড় হিসেবে আরও কয়েক বছর দেওয়ার সামর্থ্য আছে বলেও মনে করেন এডুলজি। তার ভাষায়, ‘যে সংস্করণেই সে খেলতে চায়, তার সামনে আরও কয়েক বছর আছে। ক্যারিয়ারের বাকি সময়টা তার উপভোগ করা উচিত।’
হরমনপ্রীতের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন দীর্ঘদিনের সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। আগামী বিশ্বকাপ ও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিককে সামনে রেখে মান্ধানাকে কেন্দ্র করে দল গড়ার পরিকল্পনা করছে বিসিসিআই।
নতুন অধিনায়কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অবশ্য এখনো আসেনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন ছয় ম্যাচের সীমিত ওভারের সিরিজের দল নির্বাচনের সময়ই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিরিজে তিনটি করে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলবে ভারত।
হরমনপ্রীতের নেতৃত্ব ছাড়ার মধ্য দিয়ে ভারতীয় নারী ক্রিকেটে দীর্ঘ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তিনি অবসর নিচ্ছেন না; আপাতত খেলোয়াড় হিসেবেই চালিয়ে যাবেন ক্যারিয়ার।
দেশবার্তা/এমআর