চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ফ্রান্সিস হেলজেন। সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে নতুন নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে অসামান্য অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো কণা আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো কণার সন্ধান পাওয়া সম্ভব- এই ধারণাটি প্রথম দিয়েছিলেন হেলজেন। তার এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে নির্মিত হয় ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’। এক ঘনক কিলোমিটার (কিউবিক কিলোমিটার) আয়তনের বরফের গভীরতায় তৈরি এই বিশাল গবেষণাগারটি বিপুলসংখ্যক আলোক-সংবেদী সেন্সরে সজ্জিত। এর সাহায্যে দূর মহাবিশ্বের শক্তিশালী ও নানামুখী প্রক্রিয়া থেকে ছুটে আসা নিউট্রিনো কণা সফলভাবে শনাক্ত করছেন গবেষকেরা।
অন্যান্য চার্জযুক্ত কণা পথ বদলায় বা শক্তি হারায়, কিন্তু উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো কোনো বাধা ছাড়াই সোজা পথ অতিক্রম করে পৃথিবীতে পৌঁছে যায়। ফলে এই কণা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের এমন সব গোপন তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা অন্য কোনো উপায়ে উন্মোচন করা কঠিন।
এর আগে গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ ডেভোরেট এবং জন এম মার্টিনিস। বৈদ্যুতিক বর্তনীতে স্থূল কোয়ান্টাম যান্ত্রিক টানেলিং এবং শক্তির কোয়ান্টাইজেশন আবিষ্কারের জন্য তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।
১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১১৯ বার এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ১৯১৫ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পদার্থে নোবেল জিতেন লরেন্স ব্র্যাগ। আর ২০১৮ সালে ৯৬ বছর বয়সে সবচেয়ে প্রবীণ বিজ্ঞানী হিসেবে এই নোবেল লাভ করেন আর্থুর আসকিন।
দেশবার্তা/একে