| চলমান বার্তা: |

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে অঘোষিত সফরে ইসরায়েল গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আল জাজিরা, রয়টার্স ও সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পুতিন ইরান থেকে দূরে রয়েছেন এবং চলমান সংঘাতে কোনো ভূমিকা রাখছেন না।
কানসাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধে সহায়তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া যাচাই করছিল। যদিও ওয়াশিংটনের সহায়তার প্রয়োজন ছিল না, তবু ন্যাটো কীভাবে সাড়া দেয়, তা দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। ন্যাটোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আগের বক্তব্যও পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে চলে গেছে এবং দেশটির ২২৯টি যুদ্ধবিমান বিভিন্ন রানওয়েতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইরানের কার সঙ্গে আলোচনা করবেন, তা তিনি জানেন না। তাঁর দাবি, দেশটির নেতৃত্বের প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর আর নেই এবং তৃতীয় স্তরের নেতৃত্বের অর্ধেকও শেষ হয়ে গেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে সোমবার অঘোষিত সফরে ইসরায়েল গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে বৈঠকটি হয়েছে বলে দেশটির আর্মি রেডিও জানিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গেও হেগসেথের বৈঠক হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হেগসেথ জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অংশ এই কমান্ডের আওতাভুক্ত।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা এবং সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সফর হলো।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে তার আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেই বলে চলতি মাসে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পও বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবেন না তিনি।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করে তাঁর প্রতি সমর্থন জানান ট্রাম্প।
অন্যদিকে, সোমবার সাংবাদিক মার্ক হালপেরিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, তিনি মার্কিন প্রার্থীদের সমর্থন করেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েই মনোযোগী। ইসরায়েলের নির্বাচনে জড়াতে চান না তিনি। নেতানিয়াহুর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না বলেও জানান ভ্যান্স।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ট্রাম্পও ইসরায়েলের রাজনীতিতে জড়াতে চান না বলে মন্তব্য করেছিলেন। পরে অবশ্য নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানান তিনি। ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে ভ্যান্সের এই অবস্থান এবং হেগসেথের অঘোষিত সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করতে পেন্টাগনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পাঁচ ডেমোক্র্যাট সিনেটর। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের নেতৃত্বে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে চিঠি দিয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো মেরামতে কত সময় লাগবে এবং বিকল্প স্থাপনা ব্যবহারে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা জানতে চেয়েছেন সিনেটররা। ইউএসএ টুডে চিঠিটির বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছে।
সামরিক বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। তবে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
চিঠিতে সিনেটররা লিখেছেন, অনুমোদনহীন এই যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় গোপন রাখার প্রশাসনিক প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। তাঁদের মতে, যুদ্ধের ব্যয়ের হিসাব গোপন রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। মিত্র দেশগুলোর ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আঞ্চলিক অংশীদারদের ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়েছেন মার্কিন সেনাসদস্যরাও।
গাজায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু হিন্দ রাজাব হত্যার ঘটনায় এক ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডারের বিরুদ্ধে তদন্ত ও তাঁকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গণহত্যা সনদ ও জেনেভা কনভেনশনের পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই কমান্ডারের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশনও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রতি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি শন গ্লাস নামের এক কমান্ডারকে শনাক্ত করেছে। তাদের দাবি, শিশুটিকে হত্যার সময় তাঁর ইউনিট ঘটনাস্থলের আশপাশে সক্রিয় ছিল এবং ওই কমান্ডার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনায় ১০ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে সংঘটিত এসব সহিংসতার মধ্যে ছিল দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর আলোকচিত্রী হেইডি লেভিনকে গুরুতরভাবে মারধর এবং ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপর হামলা।
গ্রেপ্তারের দৃশ্য দেখানো একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর মস্কোর সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইতিহাসে ইরান ও রাশিয়া কখনোই বর্তমান সময়ের মতো এত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেনি।
লাভরভের সঙ্গে আলোচনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে ছিল লেবানন, ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও ইয়েমেন পরিস্থিতি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও পারমাণবিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ট্রাম্প যখন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রশংসা করে ইরান থেকে তাঁর দূরে থাকার কথা বলছেন, তখন তেহরানের পক্ষ থেকে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার এই বক্তব্য এল।
হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ড্রোনটি প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আওতায় আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী পরিচালিত একটি উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোনটি ভূপাতিত করেছে।
তবে এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
দেশবার্তা/এমআর
