মাগুরায় শাকের হোসেন হত্যা এবং রামনগর বাজার এলাকা থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির পৃথক দুটি মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই মামলায় মামলাভিত্তিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৩ হলেও একজনের নাম উভয় মামলায় থাকায় স্বতন্ত্র গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ১১। বুধবার (৪ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৬ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি স্বর্ণের চালান বহনকারী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে নেন। পরে তাঁকে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তাঁর কাছ থেকে ১৫০ ভরি তেজাবি স্বর্ণের বার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা, এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন।
এ ঘটনায় ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা নম্বর ৬৩ দায়ের করা হয়। মামলায় ১৭০/৩৯৫/৩৯৭ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বাদী মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের মো. মজিবর রহমান (৪৮)।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজন হলেন মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৯ ভরি ৭ আনা ওজনের একটি তেজাবি কাটা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার মডেলের দুটি মোটরসাইকেল এবং সিলভার রঙের একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
শাকের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জন
গত ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারের ভেতরে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শাকের হোসেন (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন্নাহার রুমা বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় নম্বর ৪৯ এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা ও ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)।
এ মামলায় বুলেট, খালি কার্তুজ ও পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ৫১ ভরি ৯ আনা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দুই মামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেপ্তার মো. গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতিনিধি/আরএইচ