পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২০২৬ সালের কাফেলার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাহিনীর সদর দপ্তরের অডিটোরিয়ামে মনোনীত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যদের মধ্যে ভিসা, বিমান টিকিট ও বিশেষ উপহারসামগ্রী বিতরণ এবং দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি তিনজন কর্মকর্তা ও ১৯ জন সদস্যসহ মোট ২২ জনের হাতে ভিসা, বিমান টিকিট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তিনি ওমরাহ কাফেলার সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ যাত্রা কামনা করেন। পাশাপাশি যথাযথ নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে পবিত্র ওমরাহ পালনের পাশাপাশি দেশ ও বাহিনীর কল্যাণে দোয়া করার নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য তারুণ্যই উপযুক্ত সময়। জীবনের শুরুতেই ধর্মীয় অনুশীলন ও আত্মশুদ্ধির চর্চা মানুষকে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে। আর সব সংস্কারের মূল ভিত্তি হলো মানসিকতার সংস্কার। তাই প্রত্যেককে ইতিবাচক মানসিকতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি সুশৃঙ্খল, জনসম্পৃক্ত ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান। পবিত্র ওমরাহ থেকে অর্জিত শিক্ষা ও মূল্যবোধ যেন সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়।
সফরসংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে মহাপরিচালক মনোনীত সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলার আহ্বান জানান। সফরকালে পারস্পরিক সহযোগিতা, দলীয় শৃঙ্খলা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ সহযাত্রীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি সফরসংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে সতর্কতার সঙ্গে যাত্রা সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। পবিত্র ভূমিতে দেশ, জাতি ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করার আহ্বানও জানান তিনি।
পবিত্র ওমরাহ-২০২৬ পালনের জন্য মনোনীত সদস্যদের প্রতি বাহিনীর এ বিশেষ উদ্যোগ তাঁদের পেশাগত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার স্বীকৃতি বহন করে। মহাপরিচালকের শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনা তাঁদের মনোবল আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওমরাহ পালনের মাধ্যমে সদস্যরা আত্মশুদ্ধি ও নতুন অনুপ্রেরণা লাভ করে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
দেশবার্তা/আরএইচ