আমাল ছে বান্তি হায় জিন্দেগি-১০

আলহাজ সৈয়দ আমিন উল্লা

ধর্ম

খাঁটি দুধের জন্য ফুপ্পা দুটি গরু কিনেছিলেন। গরু দেখার লোক ছিল। ফুপার কিছু কাজের লোক ছিল। যেমন জমির

2026-11-03T17:22:37+06:00
2026-11-03T17:22:37+06:00
মঙ্গলবার ● ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
ধর্ম
স্মৃতি কথা
আমাল ছে বান্তি হায় জিন্দেগি-১০
দুটি সুন্দর মৃত্যু
আলহাজ সৈয়দ আমিন উল্লা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:২২ পিএম 
⏲
প্রতীকী ছবি
খাঁটি দুধের জন্য ফুপ্পা দুটি গরু কিনেছিলেন। গরু দেখার লোক ছিল। ফুপার কিছু কাজের লোক ছিল। যেমন জমির বাবুর্চি। ছফর বাড়ি দেখাশোনা করতো, তার স্ত্রী ছিল জরিনা, ঘরের কাজ করতো। ফুপ্পার নাম ছিল সালেহ উদ্দিন আহমেদ। ছয় ফুটের কাছাকাছি ব্রিটিশদের মতো লাল টুকটুকে সুঠাম দেহ। ব্রিটিশ আমলের বিসিএস, ব্রিটিশ আমলে ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন প্রথম জীবনে। তাঁর পিতার নাম ছিল (ডেপুটি দলিল উদ্দিন)। 

বাড়ি: পারিল, মানিকগঞ্জ, সাহেব বাড়ি। উনারা সাত ভাই ছিলেন। তারা সকলেই দেখতে সাহেবদের মতো। তাই বাড়ির নাম ছিল সাহেব বাড়ি। চাকরি জীবনের পরে ঢাকায় রামকৃষ্ণ মিশন রোডে বাড়ি করেন। পাকিস্তান আমলে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সেটেলমেন্ট ইনচার্জ ছিলেন। ভাল শিকারীও ছিলেন বটে। হরেক রকমের বন্দুক, বিভিন্ন ধরনের জুতা ছিল তাঁর। রবিবার বন্ধের দিন সব বন্ধুক নিজ হাতে পরিষ্কার করতেন। জুতাগুলো নিজ হাতে পরিষ্কার করতেন ও পলিশ করতেন। যখন অফিসে যেতেন প্যান্ট, দামি জুতা পায়ে কেতা দুরস্ত। জিপ আসতো বাসার দোর গোড়ায়। 

ঋজু দেহ খট খট মচ মচ জুতার আওয়াজ করে ফুপ্পা এগিয়ে যেতেন। দরজার সামনে গিয়ে একটু ঘুরে দাঁড়িয়ে বলতেন, “আমি যাচ্ছি”। ফুপ্পু বলতেন, “খোদা হাফেজ”। ফুপ্পা জিপে উঠে
বসতেন। এমনি নীতিবান ছিলেন যে, নিজের পরিবারের জন্য কখনো অফিসের গাড়ি ব্যবহার করতেন না। ফুপ্পু শুধু একদিন বলেছিলেন বাচ্চাদের কষ্ট হয় গাড়িটা পাঠিয়ে দিলে ভালো হয়। 
ফুপ্পা উত্তরে বললেন, “সরকার গাড়ি দিয়েছে” অফিসের কাজে ব্যবহারের জন্য, বাচ্চাদের রিকশা দিয়ে স্কুলে পাঠাও।” 

একবার এক মিনিস্টার (পাকিস্তান আমলের) বারেবারে ফুপ্পাকে ফোনে খোঁজ করছিলেন। কিন্তু পাচ্ছিলেন না। বহুক্ষণ ফোন করে অধৈর্য হয়ে মিনিস্টার সাহেব নিজেই অফিস ভিজিট করতে চলে এলেন। মিনিস্টার সাহেব দেখলেন (সালেহ উদ্দিন আহমাদ) ফুপ্পা দিব্বি অফিসের কাজে ব্যস্ত। মিনিস্টার সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন ফোন করে যাচ্ছি আপনি ফোন ধরেন না কেন? ফুপ্পা মিনিস্টার সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে টেবিলের নিচে দেখালে? ফোনের তার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

কারণ, মিনিষ্ট্রি থেকে অনবরত তদবির আসতে থাকে কাজের ব্যাঘাত ঘটে। অতএব, সাময়িকভাবে এটা বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। মিনিস্টার সাহেব হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। এই হলো ফুপ্পার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। বাড়িতে যখন থাকতেন সকলেই চুপ হয়ে যেত। ফুপ্পা গুরু গম্ভির হয়ে বাসায় বসে থাকতেন। সকাল, দুপুর, রাতে সকলকে এক টেবিলে বসে খেতে হতো। কিন্তু কাঁটা চামচ অথবা খাওয়ার কোনা আওয়াজ না হয় ফুপ্পু গেই সকলকে সতর্ক করে দিতেন। ফুপ্পার দুই ভাই ব্রিটিশ আমলের ‘আইসিএস’ ছিলেন।

ভোরে আব্বা রামকৃষ্ণ মিশন রোডে ফুপ্পার বাড়ি (আমেনা লজ) এর প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে দরজার কড়া একটানা খটখট করেই যাচ্ছেন। আমার অস্বস্তি লাগায় বলে উঠতাম কড়া নাড়া
হয়েছে আর দরকার নেই। আব্বা বলতেন, বেহুদা রৌদ্র উঠে গেছে এখনো সব বিছানায় শুয়ে আছে। বুলু ভাইয়া ফুপ্পার বড় ছেলে ইউনিভার্সিটিতে পড়েন, চোখ ডলতে ডলতে হাই তুলতে
তুলতে দরজা খুলে আব্বাকে দেখতেই সালাম ঠুকলেন। 

আব্বা আদরের স্বরে তিরস্কার করলেন নামাজ নাই, কালাম নাই, পড়ে পড়ে ঘুমানো। আব্বার আওয়াজ সকলেই ধড়মড়িয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে বসলো। আম্মার হাতের বিভিন্ন স্বাদের রান্না নিয়ে আব্বা এসেছেন। সকলেই মনু আপা, বাটু আপা, আফরোজ, ফিরু, ফুপ্পু সকলেই মহানন্দে প্রখ্যালন শেষে টেবিলে আনন্দ সহকারে খাওয়া। আনন্দটা হোত ফুপ্পা অফিসে গেলে। অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের বাসা ঘুরে দায়রা শরীফে ফিরে আসা। 

দায়রা শরীফে ফিরে আসা। দায়রা শরীফের সব স্বজনে ভরপুর। দায়রা শরীফের বসবাসকারী আত্মীয়রা একান্নভুক্ত পরিবার। সকলে একটি বড় খাওয়ার ঘরে একত্রে খাবার নিয়ম ছিল। যখনই কোনো দোয়ার অনুষ্ঠান হতো ঢাকার সমস্ত আত্মীয় স্বজন এই দায়রা শরীফে একত্রিত হতো।

দেশবার্তা/জেএ


সর্বশেষ সংবাদ 

সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের
এসআরবির মহাপরিচালকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৭ কর্মকর্তাকে বদলি
দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে শনিবার ৬ ঘণ্টা টোল লাগবে না
কড়াইল বস্তিতে মাদক জব্দ, নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার ২

সর্বাধিক পঠিত 

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে পেশাদার চালকদের ফ্রি স্বাস্থ্য পরীক্ষা
ওমরাহ পালনে আনসার-ভিডিপির ২২ সদস্যের কাফেলার যাত্রা শুরু
প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও দক্ষতা কাজে লাগাতে ঢাকায় বসছে এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট
পিরোজপুরে মাদক প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের পর্যালোচনা সভা
সিমির মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনের দাবি মায়ের
ধর্ম- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]
Advertisement