সমস্ত আরব প্রান্তর মরুভূমি তীব্র সূর্যের তাপ, এখানকার মানুষগুলো হয়ে উঠেছিল কর্কশ, উদ্ধত, সমাজ ব্যবস্থা ছিল বিপর্যস্ত-এরা ছিল নিষ্ঠুর, অসভ্য এক জাতি। এদের মধ্যে মানবতা বোধ ছিলনা। এরা ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন জাতি। আল্লাহর প্রেরিত দূত হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়ে আসেন আল্লাহর বাণী। ইসলাম ধর্ম। এই ধর্মের মর্মবাণী দ্বারা নবী করিম (সা.) সমস্ত জাতিকে আলোকিত করে তুললেন। এই আলোর মশাল হাতে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে রাসূলের অনুসারীরা ছড়িয়ে পড়লেন। নবীর তিরোধানের পরেও এই আলোকবার্তার প্রচার থেমে যায়নি।
যারা আল্লাহ্র আশেক এই সত্য ধর্মকে কলবে ধারণ সাধনার ও আমলের মাধ্যমে সাধারণ সীমা অতিক্রম করে মোকামে পৌঁছে আল্লাহ্র দিদার লাভ করে ঐশ্বরিক বলে বলীয়ান হন। তাঁরা দায়িত্ব অনুভব করেন এই আলোকিত বাণী প্রচারের। সেই দায়িত্ববোধ থেকে একজন সাধক আলোর মশাল হাতে পাড়ি দিলেন ইরাক থেকে বাংলাদেশে। মাছের পিঠে চড়ে এসে গেলেন চট্টগ্রামে যার নাম “সৈয়দ শাহ্ বখতিয়ার মাহি সাওয়ার। এই সাধকের কর্ম এক সময় শেষ হয়। এরপর এই দায়িত্বের আলোর মশালটি তুলে নেন তাঁরই বংশধর শাহ্ সুফি সৈয়দ দায়েম (রা.)।
ইনি পীরের হুকুমে চলে আসেন ঢাকার আজিমপুরে। এই এলাকাটিতে কোন জনবসতি ছিল না। চারদিকে ছিল জঙ্গল। দায়েম (রা:) গভীর জঙ্গলে ধ্যানমগ্ন হলেন, আস্তানা গাড়লেন। এই সাধকের খোঁজ পেয়ে লোক আসতে শুরু করলো। লোকজনকে ইসলামের শিক্ষা-দীক্ষা দিতে লাগলেন। শুরু হলো বিভিন্ন দোয়া, জিকির। আর দিতে লাগলেন পথের দিশা আধ্যাত্মবাদ। শারীরিক রোগ এবং মানসিক রোগ থেকে এই সাধকের দোয়ার তদবিরে মানুষ আরোগ্য লাভ করতে লাগলো।
লঙ্গরখানা জারি হলো। খানকা জারি হলো। দায়েম (রা.) নিকট বায়াত হয়ে অনুসারীগণ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়লো। আজিমপুর এলাকায় এক নতুন সভ্যতার উত্থান হলো। এই খানকা আজিমপুর দায়রা শরিফ নামে সুপ্রশিদ্ধি লাভ করলো।বংশ পরিক্রমায় এই খানকা ২৫৬ বৎসর যাবত চালু আছে এবং দায়েম (রা.) সিলসিলা আধ্যাত্মবাদের দীক্ষা ওজিফা একইভাবে পালিত হচ্ছে। খানকার বর্তমান গদীনাশিন “আলহাজ্ব সৈয়দ শাহ্ নেয়ামাত উল্লাহ্ (যোহায়ের)” বংশানুক্রমে প্রাপ্ত সেই আলোর মশালকে দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছেন।
সেই মহানবী যার দরুদ স্বয়ং আল্লাহ্ পড়েন এবং সকলকে রসূলের উপর দরুদ পড়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সেই রসূল করিম (স.)-এর জন্মদিবস ১২ই রবিউল আওয়াল আসন্ন। এই খানকা শরিফে (আজিমপুর দায়রা) এই মহামানবের উদ্দেশ্যে ১২ দিন ব্যাপী মিলাদ, দরুদ, সালাতুল আসকার পাঠ ও দোয়া মাহফিল হয়ে থাকে। ১২ই রবিউল আউয়াল সমস্ত ভক্তকুলের মহাসমাবেশ ঘটে। বহু ইসলামিক চিন্তাবিদগণ এই মাহফিলে যোগদান করেন ও রসূলে পাকের শানে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।
দোয়া, জিকির-আজকার শেষে কদম রসূল (পাথরে রসূলের পায়ের ছাপ) বের করা হয়। রসূলের আশেকগণ গভীর ভক্তিতে আবেগে আপ্লুত হয়ে পাথরে চুমা খেতে থাকেন ৷ ভাবাবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মহানবির প্রজ্জ্বলিত আলোর মশালটি চিরদিন মানবের মাঝে জ্বলতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ ৷