মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি ও অবৈধভাবে মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২৫টি গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও ভেজাল উপকরণ ব্যবহার করে ছানা তৈরির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সাত দিনের মধ্যে পরিবেশের উন্নতি না হলে প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে সাটুরিয়ার বিভিন্ন বাজার ও খাদ্যপণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, স্যানিটারি পরিদর্শক ও ব্যাটালিয়ন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে বিভিন্ন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র ও ডিলার পয়েন্টে অভিযান চালানো হয়। সেখানে খুচরা বাজারে একটি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা যায়।
অভিযানের একপর্যায়ে এক খুচরা বিক্রেতার দোকানে কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডার প্রদর্শনে রেখে বাড়িতে গোপন গোডাউন করার তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২৫টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে মজুদের দায়ে ওই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা সিলিন্ডারগুলো কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকা দরে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
অন্যদিকে, সাটুরিয়ার দরগ্রাম এলাকায় ছানা তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া যায়। অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, ছানা ঠান্ডা ও ধোয়ার জন্য ব্যবহৃত পানিতে ব্যাঙাচি, ব্যাঙ ও মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ডালডা, তেল ও আটা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ছানা তৈরির অভিযোগও পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পরিবেশের উন্নতি না হলে তাদের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সাটুরিয়ায় উৎপাদিত এসব ছানা ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করা হয় বলে কারখানার মালিকেরা জানিয়েছেন।
অভিযানে মুকলেস এন্টারপ্রাইজের মালিক মুকলেস ও আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক শহিদুলকে ৪০ ধারায় ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। মাছরাঙ্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা খোরশেদ আলমকে ৪০ ও ৪৫ ধারায় ৫০ হাজার টাকা এবং আরাধনা ঘোষকে ৪৩ ধারায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মোট জরিমানার পরিমাণ ৯০ হাজার টাকা।
সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, কেউ অবৈধভাবে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি কিংবা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও ভেজাল ঠেকাতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ