শাহ আমানত বিমানবন্দর এলাকায় চলছে মাটিলুটের মহোৎসব

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম

সারাদেশ

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় মাছ চাষের জন্য পুকুর খননের আড়ালে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি জায়গা

2026-10-07T17:46:05+06:00
2026-10-07T17:46:05+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
সারাদেশ
শাহ আমানত বিমানবন্দর এলাকায় চলছে মাটিলুটের মহোৎসব
এম আর আমিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৬ পিএম 
⏲
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় মাছ চাষের জন্য পুকুর খননের আড়ালে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দর এলাকায় মাছ চাষের জন্য ইজারা নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাটি সরিয়ে নিচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মাটি কাটা হচ্ছে। কোথাও কোথাও কাটা মাটি বাইরে নিয়ে গিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাক ও ডাম্প ট্রাকে করে এসব মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় ও রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় মাটি কাটার বিষয়ে যথাযথ নজরদারি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নিয়মনীতি না মেনে নির্বিচারে মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে এই মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রের তথ্যে সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সরকারের একটি প্রথম সারির গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনা (কেপিআইভুক্ত) হওয়ায় এর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে হাই সিকিউরিটির মাধ্যমে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা। কিন্তু এই নীতির তোয়াক্কা না করে বিমানবন্দরের ভেতরে রানওয়ে ও রাস্তার পাশে বিশাল পুকুরের মতো গর্ত করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

গত ৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সরেজমিনে গিয়ে মূল সড়কে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে, রানওয়েতে একটি বিমান আকাশের দিকে উড়ার চেষ্টা করছে। তার কাছেই এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছিল। আরও কিছুটা এগিয়ে কয়েকটি বড় পুকুরের মতো গর্ত দেখা যায়। এরপর মূল গেট দিয়ে চেকপোস্ট অতিক্রম করে প্রবেশের পর রাস্তার পাশে ডানদিকে কলাবাগান ধ্বংস করে বিশাল আয়তনের পুকুর খনন করতে দেখা যায়। এক পাশে একটি এস্কেভেটর অলস অবস্থায় ছিল। এর পাশে আরও কয়েকটি বড় পুকুর রয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এনাম নামের একজনসহ বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী জায়গাটি মাছ চাষের জন্য ইজারা নিয়েছেন। তাঁরাই পুকুর তৈরির জন্য মাটি কাটছেন এবং সেই মাটি বাইরে বিক্রি করছেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান বাড়ি ও ১৪ নম্বর এলাকায় এসব মাটি বিক্রি করা হয়েছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারি রাজস্বের টাকা খরচ করে একবার এসব মাটি কিনে জায়গা ভরাট করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবারও মাটি কিনতে হবে। আর সেই কেনা মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করে কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের পকেট ভারী করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে মাটি বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা প্রোটোকল রয়েছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো কেপিআই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর বা তার চারপাশের নির্দিষ্ট সীমানা (কমপক্ষে ১ কিলোমিটার) থেকে বাণিজ্যিকভাবে মাটি কাটা ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশোধিত, ২০২৩-এ বলা হয়েছে, ‘কেপিআইভুক্ত স্থাপনা, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, রেললাইন বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার সর্বনিম্ন ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ধরনের মাটি বা বালু উত্তোলন ও বিপণন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে যদি কোনো রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে (যেমন: ড্রেনেজ সিস্টেম, পুকুর পুনর্খনন বা ভবনের ভিত্তি তৈরি) মাটি কাটা হলেও সেই মাটি উন্মুক্তভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করা যায় না।’

সরকারের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী, সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উত্তোলিত মাটি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে এবং নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া মেনে নিলাম বা বিলি-বন্দোবস্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা জোনিং বা বাফার জোন থাকে। কেপিআই প্রাঙ্গণে অননুমোদিত বহিরাগত ব্যক্তি বা ভারী খননযন্ত্রের (এস্কেভেটর/ড্রেজার) প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত নিরাপত্তার ক্ষতি হতে পারে—এমন যেকোনো ধরনের মাটি অপসারণ বা খননকাজ সম্পূর্ণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই আইন অমান্য করে অবৈধভাবে মাটি কাটা বা বিক্রি করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, অপরাধীদের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা এবং মাটি কাটায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি (এস্কেভেটর, ড্রেজার, ট্রাক বা অন্যান্য যানবাহন) বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির স্পর্শকাতর ও কেপিআইভুক্ত স্থাপনা। যার বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কঠোর নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকার কথা হলেও দিনে দুপুরে মাটি কেটে পাচারের বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, "মাছ চাষের ইজারার শর্ত অনুযায়ী পুকুর খননের কোনো অনুমতি নেই। তবে ওই স্থানে কিছু মাটি কেটে পাড় বাঁধার অনুমতি রয়েছে। মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করার বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।"

প্রতিনিধি/আরএইচ


সর্বশেষ সংবাদ 

রোনালদোর বক্তব্য পড়ার পর যা বললেন পর্তুগাল কোচ
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার
সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের তাগিদ
৫ শর্ত পূরণ না হলে মিয়ানমারে ফিরতে চায় না ৮৭ শতাংশ রোহিঙ্গা
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ: চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার ৬৯ শতাংশ অর্জিত

সর্বাধিক পঠিত 

শাহ আমানত বিমানবন্দর এলাকায় চলছে মাটিলুটের মহোৎসব
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জে এলজিইডির পরিচ্ছন্নতা অভিযান
সাটুরিয়ায় গ্যাসের গোপন মজুত, ১২৫ সিলিন্ডার জব্দ: জরিমানা ৯০ হাজার
জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
ঢাকায় যুবককে হত্যা, ডিমলায় বাড়ির পাশে মাটিচাপা
সারাদেশ- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]
Advertisement