জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি নতুন ও দুটি সংশোধিত প্রকল্প।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে সাত হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭৩ কোটি সাত লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণসহ পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কাজের প্রথম পর্ব।
মন্ত্রণালয়টির অন্য তিনটি প্রকল্প হলো ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (এসআইডিপি) ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ (তৃতীয় সংশোধিত)।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ও অপারেশনাল যানবাহন ক্রয় করা হবে।
ঢাকা সেনানিবাসে মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় ‘বি’ টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
জিগাতলায় গাবতলা কলোনীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের অধীনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিও (পিইডিপি-৫) অনুমোদন পেয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় তিতাস গ্যাস ফিল্ডে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামে দুটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন করা হবে।
গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের তৃতীয় সংশোধিত প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে।
৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও পাঁচটি প্রকল্পের বিষয়ে একনেককে সভায় অবহিত করা হয়, যেগুলো ইতোমধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন করেছেন।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, দেশের শিশু-কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তার প্রথম সংশোধিত প্রকল্প।
ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্পও পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন করেছেন।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু অংশ নেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
দেশবার্তা/একে