ইমন মিয়া, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

ফিচার

2026-07-09T16:56:13+00:00
2026-07-09T16:56:13+00:00
শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English

শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
চলমান বার্তা:
ফিচার
ডাকবাক্স: হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্যের গল্প
ইমন মিয়া, সাঘাটা (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম 
একসময় মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। আর সেই চিঠি আদান-প্রদানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ডাকবাক্স। সময়ের পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে আজ ডাকবাক্সের ব্যবহার প্রায় বিলুপ্তির পথে।

গ্রামবাংলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বহু পুরোনো ডাকবাক্স। অবহেলা আর অযত্নে সেগুলো এখন কেবল অতীতের স্মৃতি বহন করছে।

সম্প্রতি একটি মরিচাধরা পুরোনো ডাকবাক্স স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর গায়ে জমেছে মরিচা, ধুলাবালি ও মাকড়সার জাল। অথচ একসময় এই ডাকবাক্সেই মানুষ প্রিয়জনের খোঁজখবর, সুখ-দুঃখের সংবাদ, সরকারি চিঠিপত্র এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নথি পাঠাতেন।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের যুগের আগে ডাকঘর ও ডাকবাক্সই ছিল যোগাযোগের প্রধান ভরসা। প্রিয়জনের একটি চিঠির অপেক্ষায় দিনের পর দিন অধীর আগ্রহে থাকতেন মানুষ। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশে সেই চিত্র আজ সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। ফলে একসময়কার ব্যস্ত ডাকবাক্সগুলো এখন ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সচেতন মহলের মতে, দেশের ডাকব্যবস্থার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে পুরোনো ডাকবাক্সগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে নতুন প্রজন্ম অতীতের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবে এবং দেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংরক্ষিত থাকবে।

মরিচাধরা এই ডাকবাক্স যেন স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রযুক্তির অগ্রগতির মধ্যেও অতীতের স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে ভুলে গেলে চলবে না। এটি শুধু একটি লোহার বাক্স নয়; বরং একসময়কার আবেগ, অপেক্ষা এবং মানুষের আন্তরিক যোগাযোগের এক জীবন্ত প্রতীক।

কচুয়াহাট খামার ধনারুহা দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি মোস্তাছিরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘একসময় ডাকবাক্স ছিল মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রিয়জনের চিঠি, সুখ-দুঃখের খবর, সরকারি নোটিশ কিংবা শিক্ষার্থীদের আবেদন—সবকিছুই পৌঁছাত এই লাল রঙের ডাকবাক্সের মাধ্যমে। অপেক্ষা, আবেগ ও আন্তরিকতার এক অনন্য প্রতীক ছিল এটি। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারে ডাকবাক্সের ব্যবহার প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না, একসময় একটি চিঠির জন্য মানুষ কত আগ্রহ নিয়ে ডাকবাক্সের দিকে তাকিয়ে থাকত।’

সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়ার অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার (সুমাইয়া) বলেন, ‘ডাকবাক্স শুধু একটি বাক্স নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবেগের অংশ। তাই এই ঐতিহ্যের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ডাকব্যবস্থার গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরতে সচেতনতা এবং সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন।’

প্রতিনিধি/আরএইচ


সর্বশেষ সংবাদ 

দিনাজপুরে পক্ষকালব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সমাপ্তি
২ কোটি রুপির লোভও টলাতে পারেনি সাই পল্লবীকে, কারণ জানলে অবাক হবেন
বন্ধ কারখানা চালু করে বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা
সরকারের কত সন্ত্রাসী আছে, আমরা দেখবো: নাহিদ ইসলাম
কাফকোর কাছ থেকে ১৩২ কোটি টাকার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

সর্বাধিক পঠিত 

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আইন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত
গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
কুমিল্লায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটক
‘পাতার বাঁশরি’র পেছনের গল্প ও নিজের ভাবনা জানালেন সুনিধি
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ গ্রেপ্তার
ফিচার- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
আহমেদ টাওয়ার ( লেবেল ১২),২৮ ও ৩০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ
বনানী, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। শামীম প্রিন্টিং প্রেস, ১৯৪/৫ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা -১০০০ থেকে মুদ্রিত।
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]