জাতীয় সমস্যা সমাধানে সরকার আলোচনাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব না হলে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নিতেও সরকার পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত একটি প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলন করা অনেকের পেশা হতে পারে। কিন্তু আমাদের জন্য আন্দোলন ছিল মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম, যা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন যারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের সঙ্গে প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে সমাধান না হলে আঙুল বাঁকা করতেও আমরা প্রস্তুত।’
তিনি বলেন, সরকার জাতীয় সমস্যাগুলোর সমাধান সংসদের মাধ্যমেই করতে চায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই জাতীয় সংসদের পরিবর্তে রাজপথকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে গঠনমূলক আলোচনা ও সংসদীয় চর্চার বিকল্প নেই। আন্দোলননির্ভর রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।
তরুণ রাজনীতিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারুণ্যের শক্তি ও সাহস প্রশংসনীয় হলেও অভিজ্ঞতার অভাব অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারে। যারা এ বাস্তবতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই নতুন প্রজন্ম গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সশস্ত্র স্বাধীনতার সংগ্রাম। কিন্তু স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মানুষের জীবন দিতে হবে- এমন পরিস্থিতি কেউ কল্পনা করেনি।
তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ক্ষত কাটিয়ে উঠতে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কাজ করছেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, আলোকচিত্রী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ এবং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে