মঞ্চ দিয়ে অভিনয়জীবনের সূচনা, তারপর সায়েন্স ফিকশন সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এ অনবদ্য অভিনয় দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া। এবার মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে (এমসিইউ) আত্মপ্রকাশের মাধ্যমেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হলিউডের তরুণ অভিনেত্রী স্যাডি সিঙ্ক। পর্দায় তাঁর অভিনয় আর চরিত্র রূপায়ণ নিয়ে সিনেমা অঙ্গনে এখন বইছে প্রশংসার জোয়ার।
৩০ জুলাই বিভিন্ন দেশে এবং ৩১ জুলাই বিশ্বজুড়ে একযোগে মুক্তি পেয়েছে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি স্পাইডার-ম্যানের নতুন ছবি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’।
মুক্তির পরপরই ছবিটির পাশাপাশি বড় পর্দায় ঝড় তুলেছেন স্যাডি সিঙ্ক। মার্ভেল কমিকসের অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র ‘জিন গ্রে’ হিসেবে হাজির হয়ে দর্শক ও সমালোচক- সবাইকে চমকে দিয়েছেন তিনি।
এর আগে এক্স-মেন সিরিজের সিনেমাগুলোতে জিন গ্রেকে দেখা গেলেও স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজিতে চরিত্রটির আগমন এবারই প্রথম।
ছবিতে স্যাডি সিঙ্কের চরিত্রটি শুরু থেকেই রাখা হয়েছিল রহস্যের আবডালে। গল্পের শুরুতে নিউইয়র্ক শহরজুড়ে দেখা যায় এক অদৃশ্য শত্রুর তাণ্ডব, যে দূর থেকে সাধারণ মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
জানা যায়, এই রহস্যময় জিন গ্রের মূল লক্ষ্য ‘ডিপার্টমেন্ট অব ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর গোপন ভল্ট। সেখানে বন্দী থাকা এক অন্ধকার সত্য উন্মোচনের পথ ধরে গল্প এগিয়ে যায়। প্রথমে ভল্টে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে জিন একে একে ব্যবহার করে স্করপিয়ন ও ব্রুস ব্যানারকে। ব্যানারের মন নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বিশাল ধ্বংসাত্মক ‘হাল্ক’-এ পরিণত করে হামলায় নামায় সে।
সিনেমাজুড়ে জিন গ্রের প্রবল মানসিক ও সাইকিক ক্ষমতার সামনে বারবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে দেখা যায় স্পাইডার-ম্যানকে। এই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও জটিল আবেগে ঘেরা চরিত্রে স্যাডি সিঙ্কের অভিনয় নজর কেড়েছে সবার। মূল চরিত্র টম হল্যান্ডের পাশাপাশি তিনি এখন সিনেমাটির অন্যতম বড় আকর্ষণ।
সমালোচকদের মতে, সম্ভাবনাময় এই চরিত্রটি নিয়ে ভবিষ্যতে এমসিইউর বিশাল ক্যানভাসে নিজের জোরালো অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন স্যাডি।
স্পাইডার-ম্যানের মতো বিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যুক্ত হওয়াকে নিজের অভিনয়জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন স্যাডি সিঙ্ক। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘স্পাইডার-ম্যান সব সময়ই আমার অসম্ভব প্রিয়, বিশেষ করে টম হল্যান্ডের অভিনয় আমি খুব পছন্দ করি। কোনো কিছুর ভক্ত হয়ে পরে নিজে সেটির অংশ হতে পারা সত্যিই স্বপ্নের মতো। স্ট্রেঞ্জার থিংস-এর ক্ষেত্রেও আমার একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল।’
নিজের পুরোনো স্মৃতির কথা টেনে এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘১৪ বছর বয়সে পরিচালক ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটনের একটি সিনেমায় কাজ করেছিলাম। এতদিন পর আবার তাঁর সঙ্গে স্পাইডার-ম্যানের মতো ছবিতে কাজ করে মনে হচ্ছে জীবন একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করল।’
দেশবার্তা/একে