‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে সাত দিনব্যাপী জেলা বৃক্ষ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের আয়োজনে কুড়িগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সামাজিক বন বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. কুদরত-এ-খুদা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনডিসি সাইফুদ্দীন, বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবেশপ্রেমী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তারা।
মেলায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন নার্সারির বনজ, ফলজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের ২৮টি স্টল অংশ নেয়। মেলা চলাকালে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী বিভিন্ন প্রজাতির চারা সংগ্রহ করেন এবং বৃক্ষরোপণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর মধ্যে সেরা নির্বাচিত স্টলগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান জানান, বৃক্ষ মেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক বনায়নকে আরও গতিশীল করা। ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ মেলার সমাপ্তির মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামে সবুজায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ