প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর পূর্ব সুন্দরবনের খড়মা খালের পুনঃখনন কাজ আবার শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা খড়মা খাল পুনঃখননে প্রায় ৯ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন অ্যান্ড কোং। তবে ডিজাইন অনুযায়ী পুরো খাল খনন না করেই গত মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননযন্ত্র সরিয়ে নেয়। এ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এরপর গত ৩ জুন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের সদর দপ্তর থেকে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় কাজ শুরু করে।
সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এক বছরের মেয়াদে খড়মা ও আড়ুয়ারবেড় খাল পুনঃখননের দায়িত্ব দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে।
এর আগে শ্যালা নদীর মোহনা থেকে চাঁদপাই রেঞ্জ সদর হয়ে জিউধরা ফরেস্ট স্টেশনের বড়ইতলা টহল ফাঁড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার খালের মধ্যে বড়ইতলা অংশের প্রায় আড়াই কিলোমিটার খাল অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা ডিজাইন অনুযায়ী না হওয়ায় এবং সুন্দরবনের ভেতরের কয়েকটি শাখা খালের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দেয়।
চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় খননকাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কয়েকটি শাখা খাল খনন করে খড়মা খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে জোয়ারের পানি এখন আবার বনাঞ্চলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ