বান্দরবান পৌর এলাকার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান মং হাই সিং। এলাকায় সবার কাছে তিনি ‘ছোটন’ নামেই পরিচিত। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল একজন ফটোগ্রাফার হওয়ার। নিজের একান্ত প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন মারমা সম্প্রদায়ের এই তরুণ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনসংগ্রামকে ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে ধরার নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি পেয়েছেন বান্দরবানের তরুণ আলোকচিত্রী ও প্রথম আলোর আলোকচিত্র সাংবাদিক মং হাই সিং মারমা।
তিনি দৃকের ইন্ডিজিনাস কমিউনিটি গ্র্যান্ট-২০২৬-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের আলোকচিত্র সাংবাদিকতার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
‘প্রান্তিকের আলোকচিত্র সাংবাদিকতা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় দেওয়া এই গ্র্যান্টের মাধ্যমে মং হাই সিং তাঁর পরিকল্পিত আলোকচিত্র প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ আলোকচিত্রীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ গ্রহণের সুযোগও থাকবে। এ ছাড়া তাঁর তোলা আলোকচিত্র বাংলাদেশ প্রেস ফটো ২০২৬ প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
পাহাড়ের মানুষের জীবনযাপন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, উৎসব, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং নানামুখী সংকট দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করে আসছেন মং হাই সিং মারমা। তাঁর ছবিতে যেমন ধরা পড়ে পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, তেমনি উঠে আসে প্রান্তিক মানুষের বাস্তব জীবন, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালেই থেকে যায়।
আলোকচিত্র সাংবাদিকতা শুধু ছবি তোলার কাজ নয়; এটি সময়, সমাজ ও ইতিহাসকে নথিভুক্ত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো অঞ্চলের গল্প তুলে ধরতে স্থানীয় আলোকচিত্রীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাঁরাই মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে তাদের জীবন, সংকট ও স্বপ্নকে সবচেয়ে বাস্তবভাবে তুলে ধরতে পারেন।
মং হাই সিংয়ের এই অর্জন নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক মানের একটি গ্র্যান্টে নির্বাচিত হওয়া প্রমাণ করে, দক্ষতা ও আন্তরিকতা থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও বিশ্বমানের কাজ করা সম্ভব।
পাহাড়ের গল্পকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার এই সুযোগ নিঃসন্দেহে মং হাই সিংয়ের পেশাগত জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে এটি বান্দরবানের আলোকচিত্র সাংবাদিকতার জন্যও গর্বের একটি অর্জন। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়া পাহাড়ের জীবন, প্রকৃতি ও মানুষের গল্প ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশের আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
প্রতিনিধি/আরএইচ