জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বৈষম্য দূরীকরণ, গণহত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিভাগভিত্তিক ধারাবাহিক লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে মুক্তাঙ্গনে ১১-দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ এখানে বক্তৃতা দিতে আসিনি। জনগণের ১১ দফা দাবি মানুষের হাতে তুলে দিতে এসেছি। এই ১১ দফা কোনো দল, গোষ্ঠী বা কোনো ব্যক্তির স্বার্থের জন্য নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার দাবি।’
তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দেশে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জনভোগান্তি বাড়ছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের দাবি আদায়ের এ কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেওয়া হলে তা দ্বিগুণ শক্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাবে।
১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা জানান, অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গণহত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর এবং ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা সড়কপথে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে রেলপথে লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সচিবালয় জনগণের সম্পদ। সেখানে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের জনগণের দাবি শুনতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার না করা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দিতে তারা বাধ্য হবেন।
১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব দাবির পক্ষে দেশব্যাপী গণসংযোগ ও আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও তারা জানান।
দেশবার্তা/আরএইচ