মাদক কারবার ও চোরাচালানে জড়িত মূল গডফাদারদের ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক। একই সঙ্গে মাদকের বিষয়ে সরকারের নীতি যে ‘জিরো টলারেন্স’, তা পুনরুল্লেখ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে উভয় সংস্থা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর করে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন কোস্ট গার্ড প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী।
মাদক নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোস্ট গার্ড প্রধান বলেন, মাদক যে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় সমস্যা এটা আমরা সবাই জানি। মাদকের ব্যাপারে আমি যেটা সমস্যা দেখেছি যে, কেন জানি এ দেশে মাদকের চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদা থাকলে সাপ্লাই হবে, সরবরাহ হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে গত দুই বছরে শুধুমাত্র দেড় কোটি ইয়াবা আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাপকসংখ্যক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
মাদক প্রতিরোধে আইনি কাঠামোর জোরদারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, মাদকের কারবার সমূলে নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই নতুন শক্তিশালী আইন পাস হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকেও আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে তারা ভূমিকা রাখতে পারে।
গডফাদারদের চিহ্নিত করা প্রসঙ্গে রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যে, মাদকের যত গডফাদার রয়েছে তাদের ধরার জন্য। যারা মাদক কারবার ও চোরাচালানে জড়িত তাদের ধরা হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে গডফাদারদের ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে একদম সমূলে মাদককে বন্ধ করা যায়।
সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, সচেতনতা ছাড়া এককভাবে সরবরাহ বন্ধ করা কঠিন। পরিবার ও সামাজিকভাবে সচেতন না হলে কেবল অভিযান চালিয়ে চাহিদা ও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
তবে কোস্ট গার্ড কড়া অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, গত কয়েক বছরে যে পরিমাণ মাদক কারবারি ধরা হয়েছে, আমার মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো এত ধরা পড়েনি। সুতরাং মাদকের ব্যাপারে আমাদের নীতি জিরো টলারেন্স। আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও সংবাদ সম্মেলনে উভয় সংস্থার উচ্চপদস্থ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশবার্তা/একে