হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে দ্বিতীয় দফা ভাঙনে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উঠতি আউশ ধান, রোপা আমন, বীজতলা ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সূত্র জানায়, সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বেশ কয়েকটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান জানান, ১২৫ হেক্টর উঠতি আউশ, ৯৫ হেক্টর রোপা আমন, ২২ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা ও ২৫ হেক্টর শাকসবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
গত রোববার দুপুরে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সদর উপজেলার কালীগঞ্জ নামক স্থানে দ্বিতীয় দফা ভাঙনের সৃষ্টি করে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
গত ৯ জুলাই একই স্থানে ভাঙনে সদর ও বাহুবল উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধটি মেরামতের কাজ করছিল। এ পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি জি কে গউছ রোববার সকালে ওই বাঁধের মেরামতকাজ পরিদর্শনে যান। তিনি কাজের মান দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এর স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ফিরে যাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই বাঁধটি ভেঙে যায়।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
প্রতিনিধি/আরএইচ