যশোরে বাণিজ্যিক কচুর লতি চাষে বাম্পার ফলন, লাভে কৃষক

উবাঈদুল হুসাইন আল সামি, যশোর

কৃষি

যশোরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কচুর লতির বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার আটটি উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি কচুর লতির

2026-09-03T13:31:35+06:00
2026-09-03T13:31:35+06:00
সোমবার ● ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
কৃষি
১৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ
যশোরে বাণিজ্যিক কচুর লতি চাষে বাম্পার ফলন, লাভে কৃষক
স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে উৎপাদিত লতি
উবাঈদুল হুসাইন আল সামি, যশোর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩১ পিএম 
যশোরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কচুর লতির বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার আটটি উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি কচুর লতির আবাদও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি এবং কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী পরামর্শে কম খরচে অধিক লাভ পাচ্ছেন কৃষকরা।

স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর উৎপাদিত কচুর লতি পাইকারদের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ধানসহ অন্যান্য প্রচলিত ফসলের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শত শত কৃষক এখন বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষে ঝুঁকছেন।

যশোর দীর্ঘদিন ধরেই সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক কচুর লতির আবাদ নতুন মাত্রা পেয়েছে। জেলার চৌগাছা, বাঘারপাড়া, শার্শা, ঝিকরগাছা, মনিরামপুর, কেশবপুর, যশোর সদর ও অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে এখন কচুর লতির সবুজ সমারোহ দেখা যাচ্ছে। একসময় যেসব জমিতে শুধু ধান চাষ হতো, সেগুলোর বড় একটি অংশ এখন কচুর লতির আবাদে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, নিয়মিত পরিচর্যা করলে এ ফসল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন পাওয়া যায়।

যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুলের হাট বাজার এখন দেশের অন্যতম প্রধান কচুর লতির বাজার হিসেবে পরিচিত। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার হাটের নির্ধারিত দিন হলেও বাস্তবে সপ্তাহজুড়েই সেখানে লতির কেনাবেচা চলে। স্থানীয় কৃষকেরা প্রতিদিন ভোরে ক্যানভাস ও ভ্যানে করে লতি নিয়ে হাটে আসেন। পুলের হাট ছাড়াও আশপাশের বাজারগুলোতেও সমান তালে বেচাকেনা হয়।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিদিন শুধু পুলের হাট থেকেই কয়েক হাজার মণ কচুর লতি হাতবদল হয়। ভোর থেকে শুরু হয়ে সকাল গড়ানোর আগেই শত শত মণ লতি বস্তাবন্দী করে ট্রাকে তোলা হয়। চুরামনকাটি, সাতমাইল, আব্দুলপুর, চৌগাছা কাঁচাবাজার ও বাঁকড়ার হাট থেকেও নিয়মিত লতি সংগ্রহ করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। এসব লতি পরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় পাইকারি আড়তে সরবরাহ করা হয়।

লতি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ার অন্যতম কারণ এর লাভজনকতা। চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে জমিতে নিয়মিত ধান চাষ করতাম। কিন্তু একবার টানা বর্ষায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। এরপর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে কচুর লতি চাষ শুরু করি। প্রথম বছরেই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো লাভ পাই। এরপর থেকে ধান ছেড়ে পুরোদমে লতি চাষেই মন দিয়েছি। বাজারে অন্য যেকোনো সবজির চেয়ে লতির দাম বেশি ও স্থিতিশীল থাকে, তাই ঝুঁকি অনেক কম।

একই এলাকার কৃষক প্রদীব কুমার রায় বলেন, চলতি মৌসুমে আমার ৪৫ শতক জমিতে কচুর লতি চাষ করতে গিয়ে সার, চারা ও পরিচর্যা বাবদ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। অথচ এই জমি থেকে এ পর্যন্ত আমি প্রায় ১ লাখ টাকার লতি বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়েও আমার নিট লাভ থাকছে ৬০ হাজার টাকা। কম সময়ে এত অল্প খরচে অন্য কোনো ফসল থেকে এত টাকা আয় করা সম্ভব নয়।

পুলের হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা যশোরের লতির জন্য মুখিয়ে থাকেন। এখানকার লতি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ফলে ঢাকা বা অন্যান্য অঞ্চলের বাজারে এটি নেওয়ার সাথে সাথেই বিক্রি হয়ে যায়। পণ্যের চাহিদা ও গুণগত মান ভালো বলেই আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারি, আর কৃষকরাও এতে দারুণ উৎসাহিত হচ্ছেন।

বাঘারপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাইয়েদা নাসরিন জাহান জানান, আগে এই অঞ্চলের বন্দবিলায় হাতেগোনা চার-পাঁচজন চাষি লতি কচুর চাষ করতেন। কিন্তু মাটি ও আবহাওয়ার সার্বিক উপযোগিতা প্রমাণ হওয়ার পর এখন প্রায় শতভাগ উপযুক্ত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লতিচুর চারা চলে যাচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে গিয়ে কৃষকদের সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো ওষুধ দেওয়া ও আধুনিক পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।

যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান জানান, যশোরে সবজি চাষ বরাবরই সমৃদ্ধ। চলতি মৌসুমে আগাম সবজি খরিপ-২ এর আওতায় এই জেলার মোট ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ১৬৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক কচুর লতিরই চাষ হয়েছে। মাটি উর্বর হওয়া এবং কৃষকরা সঠিক পরিচর্যা করতে পারায় লতির ফলন হয়েছে আশাতীত। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক সময়ে সারের সুষম ব্যবহারসহ কৃষকদের সার্বিক কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

প্রতিনিধি/একে


  বিষয়:   যশোর  কচুর লতি 


সর্বশেষ সংবাদ 

পালিয়ে না থেকে আইনের মুখোমুখি হন : ডা. জাহিদ
কুড়িগ্রামে শুরু ৫৩তম জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া
বরুড়ায় সরকারি জায়গায় অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ
টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মানব পাচারকারীর ২০ আস্তানা ধ্বংস
সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের শঙ্কা

সর্বাধিক পঠিত 

দুর্নীতির অভিযোগে বিআরটিএ চট্টগ্রাম সার্কেল-১ ডিডির অপসারণ দাবি
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে আলোচনায় শফিকুল আলম শিপলু
এক মাসেও এল না ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেপথ্যে কী
তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান
শৃঙ্খলা ও মানবিকতায় দেশ গড়তে স্কাউটদের আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর
কৃষি- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]