নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নয় দিন পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের সন্ধান না মেলায় নিরাশ হয়ে কুশ ঘাস দিয়ে প্রতিকৃতি তৈরি করে প্রতীকী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু করেছেন স্বজনেরা।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ভোতে কোশি নদীর বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৯ জনে এবং এখনো নিখোঁজ ৫ হাজার ৮৩ জন। চিতওয়ান থেকে ৩৫৫টি, নওয়ালপরাসি পূর্ব থেকে ২১৮টি, নওয়ালপরাসি পশ্চিম থেকে ২১২টি, নুয়াকোট থেকে ১৭৭টি, রাসুয়া থেকে ১২৭টি, গোর্খা থেকে ৭২টি, ধাদিং থেকে ৬০টি এবং তাহানু থেকে ৩৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা ১৮টি মরদেহও নওয়ালপরাসি পশ্চিমে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং সেখানে এখনো ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্ধারকারী দল নবম দিনের মতো তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। বন্যাকবলিত রাসুয়া ও নুয়াকোটের উপত্যকাগুলোর ভূপ্রকৃতি ও পরিচিত স্থাপনা বিলীন হয়ে যাওয়ায় হেলিকপ্টারচালকদের অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাতে হচ্ছে। চিলিমে পাওয়ার হাউসের টানেলে উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনীকে সহায়তা করছে ভারতের একটি বিশেষজ্ঞ দল। উভয় দল যৌথভাবে ইতিমধ্যেই টানেলের ভেতরে ১০০ মিটার পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়েছে।
এদিকে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীসহ সংলগ্ন খাল-বিলের পানি পুনরায় বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে নেপালের আবহাওয়া বিভাগ। নদীসংলগ্ন ও ভাটির এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ সরস্বতী বিষ্টা।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ‘হিমালয়ান সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। এই সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সংহতির জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী শীর্ষ নির্গমনকারী দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় দেশি-বিদেশি ত্রাণের পাশাপাশি স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীরাও তাদের পকেটমানি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে শরিক হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আকস্মিক বন্যার পর তিব্বতে আটকে পড়া ১১৪ জন নেপালি নাগরিককে উদ্ধার করে তাতোপানি সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরিয়েছে চীন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তিব্বত থেকে ইতিমধ্যেই ২ হাজার ৫০০ নেপালি দেশে ফিরেছেন এবং আরও ১ হাজার ৪০০ জন ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, চীনা সরকারের ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টারের উপপরিচালক গাও রং সতর্ক করে জানিয়েছেন, গত ৬০ বছরে তিব্বত মালভূমির প্রায় ২৪ শতাংশ হিমবাহ কমে গেছে এবং বিলীন হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ছোট হিমবাহ। ফলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও অস্থিতিশীলতা ও ধসজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে।
দেশবার্তা/একে