পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭ নম্বর শংকরপাশা ইউনিয়নের বেলতলা এলাকায় উমেদপুর খালের ওপর নির্মিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ পুল এবং সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী পুলটি নতুন করে নির্মাণের পাশাপাশি সংলগ্ন প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেলতলা কবি আহসান হাবিব স্মৃতি ফলকের উত্তর পাশে মসজিদের সামনে উমেদপুর খালের ওপর নির্মিত পুলটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুলের গোড়া থেকে বাঁশবাড়িয়া নাজেম খাঁর বাড়ি হয়ে জহিরুল খানের বাড়ির সামনে দিয়ে কালিকাঠী হিন্দুপাড়া হয়ে তৈয়ব আলী হাউজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার ইটের সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লি, কৃষকসহ অন্তত তিন গ্রামের মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটে।
এ সমস্যার সমাধানে এলাকাবাসীর পক্ষে মো. জহিরুল খান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ পুলটি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ এবং সংযোগ সড়কটি কার্পেটিং করার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি উল্লেখ করে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, শংকরপাশা ইউনিয়নের ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পুলটির কারণে স্থানীয় জনগণ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন।
উমেদপুর খালের ওপর আনুমানিক ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন পুল নির্মাণ করা হলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি উপজেলা সদর ও আন্তঃইউনিয়ন যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুল খান বলেন, পুল ও রাস্তাটির সমস্যার বিষয়ে এর আগেও বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নিজেদের উদ্যোগে অর্থ ব্যয় করে কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছি। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় পুলে ভিম বসানো হলেও দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচলের জন্য এখানে একটি স্থায়ী পুল নির্মাণ ও সড়কটি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী, কৃষক, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের চলাচল এই পথের ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে পুল ও সড়কের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে।
প্রতিনিধি/একে