কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও জনবল সংকট থাকায় সরকারি সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বদলি হন। এরপর থেকে থানার ওসির দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ গত ১৭ মে বদলি হওয়ার পর ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি। গত ২৫ আগস্ট তিনি মাতৃত্বজনিত ছুটিতে যাওয়ার পাশাপাশি বদলি হওয়ায় ইউএনও ও এসিল্যান্ড-দুটি পদই শূন্য হয়ে যায়।
উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দীর্ঘদিন ধরে প্রধানের পদ শূন্য রয়েছে। নিকলী সরকারি মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ কলেজে এক মাস ধরে অধ্যক্ষ নেই। নিকলী জিসি মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য।
এছাড়া জারইতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক বছর, এবি নূরজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ে নয় বছর, মজলিশপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বছর, ছাতিরচর উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বছর এবং মোহরকোণা আশরাফিয়া কামিল মাদ্রাসায় সাড়ে তিন বছর ধরে প্রধানের পদ খালি রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা খাতেও রয়েছে জনবল সংকট। উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ২৫ জন। চলতি দায়িত্বে রয়েছেন ছয়জন এবং বাকি ২৯টি বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চিকিৎসক সংকট প্রকট। সেখানে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ২৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কাগজে-কলমে রয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে তিনজন ডেপুটেশনে থাকায় বর্তমানে মাত্র সাতজন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়রা বলেন, প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত এসব পদে কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
প্রতিনিধি/একে