ইরানে গত কয়েক দিনের মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কারমানপুর বৃহস্পতিবার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুখপাত্র কারমানপুর জানান, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার মধ্যবর্তী সময়ে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে ৬১ জন নারী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী ৪৪ জন শিশু-কিশোর রয়েছে। এছাড়া নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
সংঘাতের ভয়াবহতা উল্লেখ করে কারমানপুর বলেন, ‘প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একজন মানুষ এবং একটি পরিবার রয়েছে।’
গত রোববার লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর নতুন করে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক মাসের যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, সমুদ্রে মাইন বহনে সক্ষম রকেট মোতায়েনের প্রস্তুতি দেখতে পাওয়ার পর তারা ইরানের দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারী ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
এর জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানে। তারা কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
পাল্টাহামলার পর মঙ্গলবার রাতে ইরানের অভ্যন্তরে আইআরজিসির একাধিক অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্তমান এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ২০২৬ সালের ১৮ জুনের একটি সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ার পর। ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল সংঘাত নিরসন করা এবং বাণিজ্যিক যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। তবে সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের জেরে জুলাই মাসেই দুই দেশের মধ্যে আবারও নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।
দেশবার্তা/একে