১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনের বিটার্ন পার্ক স্কুলের সাবেক শারীরিক শিক্ষার শিক্ষিকা ব্রনওয়েন জেমসের (৩০) বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটির উইনচেস্টার ক্রাউন কোর্টে বর্তমানে এই মামলার শুনানি চলছে।
অভিযোগে বলা হয়, ওই শিক্ষিকা প্রথমে ওই ছাত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন এবং পরবর্তীতে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় থাকত। তবে আদালতের কাছে লিখিত জবানবন্দিতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা তার বিরুদ্ধে আনা সব দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রকে ক্লাসে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের যোগাযোগের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে শিক্ষিকা জেমস নিজেই স্ন্যাপচ্যাটে তাকে যুক্ত করেন।
ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) আদালতে জানায়, পরবর্তীতে তাদের মধ্যে অনিয়মিত যোগাযোগ নিয়মিত রূপ নেয় এবং সম্পর্ক গভীর হতে থাকে।
কৌঁসুলি এডওয়ার্ড কালভার আদালতের সামনে তুলে ধরেন, ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাতের এক পর্যায়ে তারা গাড়ির ভেতর ঘনিষ্ঠ হন। এর পর জেমসের বাসভবনে উইম্বলডন টেনিস ম্যাচ উপভোগ করার সময়ও তাদের মাঝে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং তারা সুরক্ষা ছাড়াই যৌনসম্পর্কে জড়ান।
কৌঁসুলিরা দাবি করেন, একান্তে সময় কাটানোর সময় শিক্ষিকা ওই ছাত্রকে ‘মিস’ বলে ডাকতে বলতেন।
সিপিএসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, উইল্টশায়ারের ওই শিক্ষিকা ছাত্রটির সঙ্গে এক ‘যৌনতাপূর্ণ’ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তিনি তাকে ভালোবাসেন এবং দুজনে মিলে অন্য কোথাও পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছিলেন।
আদালতে প্রদর্শিত সাক্ষ্যে ভুক্তভোগী কিশোর জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে সম্পর্কটিকে তার কাছে ইতিবাচক মনে হলেও পরবর্তীতে সে অনুধাবন করতে পারে, জেমস তাকে সূক্ষ্মভাবে প্রভাবিত করছিলেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষিকার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অন্য শিক্ষার্থীদের চক্রান্তের কারণে তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটির আইনি শুনানির এক পর্যায়ে পূর্বের জুরি সদস্যদের অব্যাহতি দিয়ে পুনরায় নতুন জুরি নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে নতুন জুরির উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক পর্ব চলমান রয়েছে।
দেশবার্তা/একে