জাপানের মধ্যাঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটির নাগোয়া শহরে মাত্র এক ঘণ্টায় ১০৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে সড়ক, রেলপথসহ বিভিন্ন অবকাঠামো পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় শোনাই নদীর জন্য সর্বোচ্চ লেভেল-৫ বন্যা সতর্কতা জারি করেছে জাপান। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) জানিয়েছে, আইচি ও গিফু প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকায় এ সতর্কতা কার্যকর করা হয়েছে।
১৪ শহর ও জনপদে সর্বোচ্চ সতর্কতা
আইচি প্রিফেকচারের রাজধানী নাগোয়া ছাড়াও সেতো, কাসুগাই, কোমাকি, ইচিনোমিয়া, ইনাজাওয়া, কিয়োসু, কিতানাগোয়া, আমা ও আরও কয়েকটি শহর-জনপদকে সর্বোচ্চ সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে। গিফু প্রিফেকচারের তাজিমি ও তোকি শহরেও সতর্কতা জারি হয়েছে।
লেভেল-৫ সতর্কতার আওতায় থাকা বাসিন্দাদের নিজেদের আশপাশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত সবচেয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে উঁচু ভবন অথবা নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলা কিংবা তার ওপরে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
নাগোয়ায় এক ঘণ্টায় ১০৪.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি
জেএমএ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত এক ঘণ্টায় নাগোয়ায় ১০৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। শহরটির ইতিহাসে এক ঘণ্টায় এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
ভারী বৃষ্টির প্রভাবে আইচি ও গিফুর কিছু এলাকায় ‘লিনিয়ার রেইনব্যান্ড’ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের মেঘমালা একই এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে অতি ভারী বৃষ্টি ঘটাতে পারে।
পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্ব জাপান পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জেএমএ। বুধবার পর্যন্ত টোকিও, সাইতামা, চিবা ও কানাগাওয়া ছাড়াও ওসাকা ও হিয়োগোতে একই ধরনের বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
বন্ধ সাবওয়ে, ব্যাহত বুলেট ট্রেন
প্রবল বৃষ্টির কারণে নাগোয়ার নগর সাবওয়ে পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন বহু যাত্রী। জেআর চুও লাইন রেলপথের কিছু অংশও পানিতে তলিয়ে যায়। ব্যস্ত সাকায়ে এলাকায় একপর্যায়ে রাস্তায় গোড়ালি পর্যন্ত পানি জমে।
বৃষ্টির কারণে টোকিওগামী তোকাইদো শিনকানসেনের ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। ওকায়ামা থেকে টোকিও এবং টোকিও থেকে নাগোয়ার মধ্যে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। সানইয়ো শিনকানসেনের কয়েকটি ট্রেনও বন্ধ রাখা হয়।
আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৭০০ মানুষ
আইচি প্রিফেকচারাল সরকার জানিয়েছে, বৃষ্টির ঘটনায় চারজন সামান্য আহত হয়েছেন। প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
নাগোয়ার চিকুসা, মরিয়ামা ও মেইতো এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। এসব এলাকার ভূগর্ভস্থ স্থানেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পানির কারণে নিষ্কাশনব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। ফলে আন্ডারপাস, ভূগর্ভস্থ বিপণিবিতান ও পার্কিং এলাকায় পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে নাগোয়ার বিভিন্ন সড়কে গাড়ির দরজা পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে।
এশিয়ান গেমসের ভেন্যুতেও পানি
নাগোয়ায় ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে আসন্ন এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেও। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর গেমসের উদ্বোধন হওয়ার কথা। এর আগে শহরের একাধিক এশিয়ান গেমসের ভেন্যুতে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে।
বৃষ্টির কারণে নাগোয়া ও আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার প্রধান পূর্বাভাস কর্মকর্তা তাকুয়া হোসোমি বাসিন্দাদের নিরাপদ উঁচু স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বন্যার ঝুঁকি কম এমন উঁচু স্থানে গিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
দেশবার্তা/এমআর