যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে তেল বিক্রির অর্থে চীনের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জামসহ কোটি কোটি ডলারের পণ্য কিনছে ইরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া দুটি উচ্চপদস্থ ইরানি সূত্রসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে, গোপনীয় এক ধরনের পণ্য বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি তেলের বিপরীতে চীন থেকে পণ্য আমদানিতে ক্রেডিট সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ব্যবস্থা ইরানকে আর্থিকভাবে টিকে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক চীনও এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নজরদারি ও জরিমানার ঝুঁকি এড়িয়ে নিজেদের ব্যাংক ও রপ্তানিকারকদের সুরক্ষিত রাখছে। পাশাপাশি কম দামে ইরানি তেল কেনার সুযোগ পাচ্ছে দেশটি।
ইরানের তেল কেনা বা পরিবহনে সহায়তাকারী কয়েকটি ছোট চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কঠোর পদক্ষেপ থেকে ওয়াশিংটন বিরত রয়েছে।
ছয় মাসের যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইরানের ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ আরোপের ফলে এই পণ্য বিনিময় ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়েছে, তা নির্ধারণ করতে পারেনি রয়টার্স। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই অবরোধ পুনর্বহালের পর থেকে কোনো ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চীনে পৌঁছাতে পারেনি।
চীন ও ইরান অতীতেও পশ্চিমা দেশগুলোর একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। দীর্ঘদিনের এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার দেশ দুটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কীভাবে বাণিজ্য সচল রাখছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব কম তথ্য দিয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান চীন থেকে ওষুধ, গাড়ি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম কিনেছে। এসব পণ্যের প্রস্তুতকারকরা সরাসরি ইরানের সঙ্গে লেনদেন করে না এবং তারা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে—এমন কোনো ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া গত এক বছরে অন্তত একবার কোটি টাকার বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তির ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দেশবার্তা/এমআর