দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক কমেছে। একই সঙ্গে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় প্রায় তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে ডিএসইর প্রধান সূচক।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। এতে কমেছে বাজারটির মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। তবে সিএসইর বিপরীতে ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।
দীর্ঘদিনের মন্দার মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেয়ারবাজার ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়। এর ইতিবাচক প্রভাবও পড়ে বাজারে।
চলতি বছরের প্রথম কার্যদিবসে দীর্ঘ মন্দার প্রভাবে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৯১০ পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল। পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে একপর্যায়ে সূচকটি ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টের ওপরে উঠে যায়। এতে দীর্ঘদিনের লোকসানে থাকা বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমে।
তবে সম্প্রতি বাজারে আবারও বড় ধরনের দরপতন শুরু হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের লোকসানও বাড়ছে। বৃহস্পতিবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
এদিন লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। এতে সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তৈরি হয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শেষ আধাঘণ্টায় প্রায় ঢালাও দরপতন দেখা দেয়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি দিনের লেনদেন শেষ হয় সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে।
দিন শেষে ডিএসইতে ১০৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩০টির দাম কমেছে এবং ৫৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৭টির শেয়ারদর বেড়েছে। ১০৭টির কমেছে এবং ২০টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির মধ্যে ছয়টির দাম বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং তিনটির অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৯টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ৫৮টির কমেছে এবং ৩১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩২টির দাম বেড়েছে এবং একটির কমেছে।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমায় ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ৮ জুনের পর সূচকটি সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। ওই দিন ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৪৮২ পয়েন্ট।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক পাঁচ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ৫৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে এনভয় টেক্সটাইল। কোম্পানিটির ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ১৯ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইর শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, মালেক স্পিনিং, নিটল ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স ও সাইথইস্ট ব্যাংক।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯০টির কমেছে এবং ২৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই এক পয়েন্ট কমেছে। দিন শেষে সিএসইতে ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
দেশবার্তা/এমআর