মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থির ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুটি করে কার্গো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানি করা হবে। প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো যেতে পারে।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পায়। একই দিনে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিও টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে।
এলএনজির মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকের সঙ্গে প্রতি এককে অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ০৬ মার্কিন ডলার যোগ করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ডিজেল, জেট এ-১ এবং ফার্নেস অয়েল কেনার পাঁচটি প্যাকেজও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এসব প্যাকেজের সম্ভাব্য মোট ক্রয়মূল্য প্রায় ১১ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা।
তবে পাঁচটি প্যাকেজের কোনোটিরই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রস্তাবিত দরদাতাদের সঙ্গে অতিরিক্ত মূল্য ও ভিত্তিমূল্য নিয়ে আরও আলোচনা করে চূড়ান্ত দর নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা শেষে সংশোধিত মূল্য পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।
পিজি-০১ প্যাকেজে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১ কেনার প্রস্তাব রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮০৩ কোটি ২ লাখ টাকা। এ প্যাকেজে ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে রাখা হয়েছে।
পিজি-০২ প্যাকেজে ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১ কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য মূল্য ৪ হাজার ৩২৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে সুপারিশ করা হয়েছে ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে।
পিজি-০৩ প্যাকেজে ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কেনার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯২ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজের সুপারিশকৃত প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড।
পিজি-০৪ প্যাকেজে ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব রয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ১ হাজার ১৮৯ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এখানেও ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে।
আর পিজি-০৫ প্যাকেজের আওতায় ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ প্যাকেজের সুপারিশকৃত দরদাতা ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড।
দেশবার্তা/এমআর