মানিকগঞ্জের ঘিওরে কালীগঙ্গা নদীতে জেগে ওঠা চরে খননযন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে বালু তোলা নিয়ে গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের পূর্ব কুশন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে দূরে তরা সেতু-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপট্টি গ্রামের আবুল কাশেম (৪৫), পলাশ মিয়া (২২), আব্দুল মান্নান (৫০), নান্নু মিয়া (৪৫), মো. জাহিদ (২০), বানিয়াজুড়ী ইউনিয়নের জাবরা গ্রামের শামীম মুন্সি (৩৩) ও রুবেল আলী (৩৫)। তাঁরা মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত আব্দুল মান্নানের জানান, ভোর থেকে নদীর চরে বড় কাটার দিয়ে মাটি কাটার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে যান। তাঁরা মাটি কাটায় বাধা দিলে কয়েকজন যুবককে ড্রেজারের সঙ্গে থাকা নৌকায় তুলে রাখা হয়। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে গেলে নৌকা থেকে লাঠি, রড ও জিআই পাইপ নিয়ে একদল লোক তাঁদের ওপর হামলা করে। এতে তিনি ও নান্নুসহ কয়েকজন আহত হন।
মান্নান বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে আকতার মেম্বার, আল-আমিন, লোকমান, হরজোদ ও সম্রাটকে তিনি চিনেছেন। রাজা মেম্বার সেখানে ছিলেন বলে অন্যদের কাছে শুনেছেন। তবে তাঁকে তিনি নিজে চেনেন না। আহত শামীম মুন্সির অভিযোগ, বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় ৩০ থেকে ৩৫ জন তাঁদের ওপর হামলা করেন। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে সিংজুরী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রাজা মেম্বার ও লোকমান হোসেনসহ কয়েকজন ছিলেন।
অন্যদিকে লোকমান হোসেনের দাবি, তাঁরা চরের জমির মাটি কিনে নিয়েছেন। সেখানে মাটি কাটার সময় স্থানীয় কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের কাজে বাধা দেন এবং চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হামলার অভিযোগে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা তিনি অস্বীকার করেন।
ছাত্রদল নেতা সম্রাট মিয়াও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি শিবালয়ের বরঙ্গাইল এলাকায় একটি মানববন্ধন কর্মসূচিতে ছিলেন। রাজা মেম্বারের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে আগে থেকেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল মেসার্স রিজু এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মাদ কামাল হোসেন অভিযোগে বলেন, তাঁদের ইজারাকৃত এলাকার বাইরে ঘিওরের আশাপুর-সংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় হামলার স্থান থেকে দূরে তরা সেতু-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন এবং সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সুমাইয়া যৌথভাবে নেতৃত্ব দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সুমাইয়া বলেন, তরা সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বালু জমা রাখার পাইপলাইন পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী বালু বা মাটি জমা রাখার ক্ষেত্রেও অনুমতি প্রয়োজন। অনুমতিপত্র না পাওয়ায় পাইপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বালু জব্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বালু কোথা থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে, সেটিও যাচাই করা হবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বা জমা রাখার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, আহতদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশবার্তা/জেএ