অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ পরিণতি ও এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করতে সোচ্চার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বাস্তব চিত্র ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে তরুণ সমাজকে অনলাইন বেটিংয়ের বিপজ্জনক ফাঁদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এমন সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক পদক্ষেপের কারণে সর্বমহলে প্রশংসায় ভাসছেন এই অভিনেত্রী।
ভিডিওতে শিহাব নামে এক যুবকের উদাহরণ টেনে চমক জানান, মাত্র ১ হাজার টাকা আয়ের লোভে পড়ে জুয়া খেলা শুরু করেছিল সে। পরবর্তীতে হারানো টাকা উদ্ধার ও জমানো অর্থ তোলার অজুহাতে স্বজনদের থেকে ঋণ নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয় ওই যুবক।
জেনারেল ইকোনমিক্স ডিভিশনের (জিইডি) ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে দেশে অনলাইন জুয়ার বাজার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকায়।
এছাড়া ২০২৬ সালের ডিবি তদন্তে একটি চক্রের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৫ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন শনাক্ত হওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে চমক উল্লেখ করেন, জুয়া কেবল একটি আর্থিক সংকট নয়, এটি একটি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য ও পারিবারিক সমস্যা। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫.৫ শতাংশ নারী এবং ১১.৯ শতাংশ পুরুষ জুয়ার কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হন, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ভিডিওতে স্বল্প আর্থিক সুবিধায় বেটিং অ্যাপের লিংক প্রচার না করার জন্য দেশের অন্যান্য তারকা ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রতি আহ্বান জানান চমক। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স ২০২৫’-এর ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা বা প্রচারণা চালানো একটি গুরুতর অপরাধ; যার শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা।
সবশেষে জুয়ার মাধ্যমে টাকা আয়ের সহজ পথ ছেড়ে তরুণ সমাজকে নিজস্ব দক্ষতা ও কাজের ওপর ভরসা রাখার তাগিদ দেন চমক। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেটিজেনরা এটিকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ উল্লেখ করে বলছেন, অনেক তারকা যখন টাকার লোভে বেটিং অ্যাপের প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন চমকের এমন উদ্যোগ দৃষ্টান্তমূলক।
দেশবার্তা/একে