কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) মো. মোস্তাক আহমেদ তালুকদারকে লাঞ্ছিত ও শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর অধীনস্থ কর্মচারী ও পৌরসভার বাজার পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গিয়াস উদ্দিন দাবি করেছেন, স্টোর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে সামান্য তর্কাতর্কি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পিএনও মোস্তাক আহমেদ তালুকদার জানান, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ শেষে পৌর ভবনের দ্বিতীয় তলায় নামাজ ও খাবারের বিরতিতে ছিলেন তিনি। এ সময় বাজার পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিন হঠাৎ তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে স্টোর রুমের বিস্তারিত তথ্য জানতে চান এবং কৈফিয়ত তলব করেন।
এ সময় পিএনও তাঁকে বলেন, "আপনার তো স্টোরের দায়িত্ব নয়, আপনি কেন কৈফিয়ত তলব করছেন?"
এতে বাজার পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেন এবং শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন পিএনও। তিনি আরও জানান, "এ সময় আমি জীবন বাঁচাতে চিৎকার দিয়ে নিচতলায় প্রকৌশলীর কক্ষে আশ্রয় নিই। গিয়াস উদ্দিন সেখানে গিয়েও আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও নানা কথা বলতে থাকেন।"
পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. আশরাফুল হককে বিস্তারিত জানান পিএনও মোস্তাক আহমেদ তালুকদার।
এ ব্যাপারে পৌর প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হাসান বলেন, "এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, নিজেদের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।"
এদিকে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার সঙ্গে অধীনস্থ তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর এমন আচরণে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাজার পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, "আমাদের পিএনও মহোদয় বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কেবল স্টোর সংক্রান্ত একটি বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উল্টো আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং এটি আমার কাজ নয় বলে কর্কশ ভাষায় কথা বলেন। এ নিয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে সামান্য তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে স্যার চিৎকার করতে করতে দোতলা থেকে নিচে নেমে আসেন। স্যার কেন আমার সাথে এমন আচরণ করলেন, তা ভেবে আমি নিজেই হতবাক হয়ে গেছি।"
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. আশরাফুল হক বলেন, "আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এটি দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করব।"
প্রতিনিধি/আরএইচ