নিজের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা না দেওয়ায় একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে মানহানি করার অভিযোগ করেছেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক বাসন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম সরকার বাবুল। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহানগরীর বাসন থানাধীন টান কড্ডা মনিদাস ঋষিপাড়া এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাঁরা জানান, যে জায়গাটিকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে, সেটি বাবুল চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন জমি বলে তাঁরা জানেন।
সেখানে আশপাশের কয়েকটি পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করে আসছেন বলেও তাঁরা জানান। এছাড়া তারা দেখতে পান, শীতলের পরিবারসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে বাবুল চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন জায়গার ওপর দিয়ে অবাদে চলাচল করছেন বলে দাবি করেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য ছড়িয়ে পরা একজন নারী পূর্বের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এগনাতো কই নাই, আমি কওয়ার মধ্যে কইছি এই জায়গা দিয়া আহন যায় যাওন যায়। এ ছাড়া তাদের কাছে জায়গা বিক্রি করছি আমরা। দশজনের ভালোর জন্য আমি কইছিলাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভূয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জমির মালিকানা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে কারও কোনো দাবি বা অভিযোগ থাকলে তা স্থানীয় ভাবে বসে আলোচনা কিংবা আইনগত প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত। কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো কোনো ভাবেই কাম্য নয়।
একই এলাকার শীতল ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বাবুল চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সেখানে আগে কোনো রাস্তা ছিলনা এবং রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়। বসবাসকারী একটি পরিবার বিকল্প পথ দিয়ে মূল সড়কে যাতায়াত করতে পারে বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, বাবুল চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আসছেন। মনিদাস ঋষিপাড়ার কয়েকটি পরিবারের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পক্ষের বক্তব্য যাচাই ছাড়া প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এবিষয়ে গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক বাসন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম সরকার বাবুল বলেন, “আমি কারও চলাচলে বাধা দিতে চাই না। বরং দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজনের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমার নিজের জায়গা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব।
কিন্তু আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা হোক। আমি সত্যকে ভয় পাই না। এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং তারা নিজেরাই জানেন কে কার পাশে ছিল।
কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কাউকে ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হলে সেটিও মানুষ একদিন বুঝতে পারবে।” তিনি বিষয়টি নিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান।
দেশবার্তা/জেএ