গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই সন্তানের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সুরহাব উদ্দিন নামে এক পান ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ঘটনার বিচার না পেয়ে ওই নারী দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের দুই সহযোগী গৌতম ও শফিকুলকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত সুরহাব উদ্দিন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তিনি মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। সম্প্রতি বাড়িওয়ালা ভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দিলে তিনি বিপাকে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে বাসা থেকে বের হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচে অবস্থান করছিলেন তিনি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে সুরহাব উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সুরহাব নিজেকে তাঁর ভাইয়ের মতো পরিচয় দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং বাড়িভাড়ার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। পরে ওই নারীকে মসজিদের পাশে একটি কক্ষে নিয়ে যান তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে তাঁর দুই সন্তানের সামনেই সুরহাব উদ্দিন তাঁকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর বিচার ও আইনি প্রতিকারের আশায় তিনি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানান।
কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে সুরহাব উদ্দিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত গৌতম ও শফিকুল ওই নারীর সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁকে ৫০০ টাকা দিয়ে ঘটনা মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনার বিচার না করে টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করায় তিনি আরও হতাশ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ওই নারী ও তাঁর দুই সন্তানকে নিরাপদে সরিয়ে নেন। পরে খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পুলিশ পরে গৌতম ও শফিকুলকে আটক করে। তবে মূল অভিযুক্ত সুরহাব উদ্দিনকে এখনো আটক করা যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, "ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মূল অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ কোনোভাবেই অর্থের বিনিময়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা উচিত নয়। ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর দুই সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে অভিযোগের বিস্তারিত যাচাই, মামলার ধারা এবং ভুক্তভোগী নারীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য পুলিশি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ