বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন, এলাকার মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে হবে না। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কেটে গেছে প্রায় ২২ বছর। অবশেষে বাবার মৃত্যুর ২২তম বার্ষিকীর দিনে তাঁর নামে নির্মিত ২০ শয্যার হাসপাতালের উদ্বোধন করেছেন ছেলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ি এলাকায় ফিতা কেটে ‘এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রয়াত এ কে এম আবু তাহের ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য, শিল্পপতি ও সমাজসেবক। তাঁর নামেই হাসপাতালটির নামকরণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোনাইমুড়ি ২০ শয্যা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল’ করা হয়।
জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪০ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনের পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জুলকার নাঈমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, প্রায় ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁর বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে। তিনি বলেন, দেশ ও এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে তাঁর বাবা এই হাসপাতাল নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন চিকিৎসা। অসুস্থ হলে মানুষ সুস্থ হওয়ার জন্য বাড়িঘর ও জমিজমা পর্যন্ত বিক্রি করে দেয়। মানুষের এই কষ্টের কথা চিন্তা করেই তাঁর বাবা এলাকার জন্য কী করা যায়, সেই ভাবনা থেকে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জমি দিয়ে গেছেন। কিন্তু বিগত সরকার হাসপাতালটির কাজ শেষ করতে দেয়নি। তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের হাসপাতাল, আপনারাই দেখভাল করবেন।’
মন্ত্রী বলেন, অবহেলিত এ জনপদের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতেই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে নামমাত্র খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম চালুর কথাও জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রেজা মোহাম্মদ সারোয়ার আকবর।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ কায়সার আলম সেলিম, সাবেক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাজী জুনাব আলী ও সৈয়দ জহিরুল ইসলাম স্বপন, সহসভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু এবং পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ‘বাড়ির পাশে হাসপাতাল হয়েছে, এটা ভেবেই খুব ভালো লাগছে। ৩৫ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে না। এখন এখানেই কম খরচে চিকিৎসা নিতে পারব।’
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফারজানা মাহফুজ বলেন, অল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে বর্তমানে বহির্বিভাগের সেবা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইনডোর সেবাসহ হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটি চালুর জন্য ইতোমধ্যে কিছু জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, দুজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও একজন মেডিকেল অফিসারসহ মোট ১০ জন জনবল নিয়োগ পেয়েছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর জন্য আরও জনবল প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৮টি পদের জনবল চাহিদা রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও সহায়ক কর্মী দ্রুত নিশ্চিত করা হলে হাসপাতালটি বরুড়ার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ