রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় প্রজননস্থল নিধনে তিন মাসের বিশেষ অভিযানে নেমেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯০ দিন ধরে চলবে এই কর্মসূচি। ডিএনসিসি জানিয়েছে, উড়ন্ত মশার চেয়ে এবার মশার লার্ভা ধ্বংসেই মূল মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে, কারণ প্রজননস্থল নির্মূল করাই মশা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তবে লার্ভা নিধন অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সিটি করপোরেশনের মশককর্মীরা বাসাবাড়িতে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বহুতল ভবন থেকে শুরু করে অধিকাংশ ব্যক্তিগত বাসভবনে কর্মীদের ঢোকাতে অনীহা দেখানোর পাশাপাশি মশককর্মীদের বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমনকি সেনাপোশাকে থাকা একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকেও একটি ভবনে ঢুকতে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
বাসাবাড়িতে প্রবেশ করতে না পারায় লার্ভা ধ্বংসে শতভাগ সফলতা নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে উল্লেখ করে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, এই পাড়ার বাড়িগুলোতে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তারা কোনো রেসপন্স করে না। বাড়ির ভেতর থেকে লোকজন আসে না। সবসময় আরেকজনের ওপর দোষটা চাপানো-যে পাশের বাড়ি বা পাশের ফ্ল্যাট থেকে আসছে, বা “এটা আমার দায়িত্ব না”, “এটা আমার এরিয়া অব রেসপনসিবিলিটিতে না”-এই ধরনের একটা টেন্ডেন্সি সবসময় থাকে।
তবে লার্ভা ধ্বংসে ব্যবহৃত দুটি ওষুধই সম্পূর্ণ মানসম্মত ও কার্যকর বলে তিনি দাবি করেন।
বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের তথ্য জানিয়ে ডিএনসিসির এই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যে প্রোগ্রামটা করছি, সেটার নাম দিয়েছি “১০০ তে ১০০”। আমরা ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিদিন নামাচ্ছি। এটা ১০০ দিন পর্যন্ত চলবে। সরকারের যে জাতীয় কর্মসূচি আছে, ৯০ দিন বা ৩ মাসের, সেটার সঙ্গে অ্যালাইন করে ১০০ দিনের কর্মসূচি। ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী ১০০টা হটস্পটে চেষ্টা করবে ১০০ শতাংশ ক্লিয়ার করার জন্য।’
অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে ঢাকা উত্তরের নগরবাসীর প্রতিটি বাসাবাড়িতে সচেতনতামূলক বার্তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএনসিসি।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রতিটি বাসা এবং সোসাইটিতে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন, অফিস, আদালত, যেখানে আছে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রেডি করেছি সেটি পৌঁছে দিবো।’
কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসাবাড়ির ভেতর এডিস মশার প্রজনন নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করা না গেলে কেবল খোলা জায়গায় ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাসার এ বিষয়ে বলেন, ‘এডিস মশার যে প্রজননস্থল, এই প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রমটা ব্যাপকভাবে চালাতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটিকে বা জনগণকেও এই কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। যার যার বাড়ি ও বাড়ির আঙিনায় নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনোভাবেই ওই বাড়িতে এডিস মশার প্রজনন না হয়।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, মশক কর্মীদের কাজের সুযোগ দেওয়া এবং নাগরিকদের নিজস্ব আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমেই কেবল ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
দেশবার্তা/একে