জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার উদ্যোক্তা সাবিনা-খোরশেদ দম্পতির ডেইরি খামারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খামারটিতে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পিকেএসএফের আর্থিক সহযোগিতায় জাকস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত স্মার্ট প্রকল্পের গবাদিপশু ও মহিষ পালন উপখাতের আওতায় উদ্যোক্তাদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ডেইরি ব্যবস্থাপনায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সাবিনা আক্তার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
সাবিনা আক্তার বলেন, প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি খামারের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ দুধ উৎপাদনের চেষ্টা করছেন।
খামারে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে কুয়াশা ছড়ানোর যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় পানির পাত্র, ঘাস কাটার যন্ত্র, উচ্চচাপের পানি ছিটানোর যন্ত্র এবং দুধ দোহনের যন্ত্র।
কুয়াশা ছড়ানোর যন্ত্রের মাধ্যমে গরমের সময় খামারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় পানির পাত্রের মাধ্যমে গবাদিপশুর জন্য পরিষ্কার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ঘাস কাটার যন্ত্র ব্যবহারে পশুখাদ্য প্রস্তুত ও ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে এবং খাদ্যের অপচয় কমছে। উচ্চচাপের পানি ছিটানোর যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত খামার পরিষ্কার করা সম্ভব হওয়ায় পানি ও সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা হচ্ছে।
জাকস ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডা. জহুর আলী বলেন, দুধ দোহনের যন্ত্র ব্যবহারের ফলে দোহন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার খামার পরিচালনার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত দুধ বিক্রির মাধ্যমে পরিবারে ধারাবাহিক আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে এই ডেইরি উদ্যোগ।
জাকস ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক (প্রোগ্রাম) বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ডেইরি খামার গড়ে তুলতে পারেন। সাবিনা আক্তার ও খোরশেদ দম্পতির উদ্যোগ এর একটি বাস্তব উদাহরণ।
প্রতিনিধি/আরএইচ