সিলেটের এলএ শাখায় জমি অধিগ্রহণে ১৫ শতাংশ ঘুষের অভিযোগ

সিলেট অফিস

সারাদেশ

সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় মিসকেইসের নথি নিষ্পত্তিতে ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন

2026-10-26T16:22:26+06:00
2026-10-26T16:22:26+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
সারাদেশ
সিলেটের এলএ শাখায় জমি অধিগ্রহণে ১৫ শতাংশ ঘুষের অভিযোগ
টাকা ছাড়া নড়ে না নথি
সিলেট অফিস
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ পিএম 
⏲
সংগৃহীত ছবি
সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় মিসকেইসের নথি নিষ্পত্তিতে ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন সার্ভেয়ার ও কানুনগোর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, শত শত মিসকেইসের নথি ফেলে রাখা হলেও ১৫ শতাংশ কমিশনের চুক্তি হলে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, টাকা দিতে রাজি নন—এমন জমির মালিকেরা বছরের পর বছর এলএ শাখায় ঘুরেও তাঁদের অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের চেক পাচ্ছেন না।

এলএ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করছে। এ জন্য সড়কের পাশের জমির মালিকদের এলএ শাখা থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পেয়ে জমির মালিকেরা মিসকেইসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষ হয়ে নির্ধারিত তারিখে হাজিরা দিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, অধিগ্রহণ করা কিছু জমির মালিকের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষ আদালতে স্বত্ব দাবি করে মামলা করায় সেসব নথি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এলএ শাখায় পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও আদালতে মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে যেসব জমি নিয়ে কোনো পক্ষের মামলা নেই, কিংবা আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরে আর হাজির হচ্ছেন না, সেসব মিসকেইসও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না। ফলে জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণের চেক পাচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট জেলা প্রশাসকের এলএ শাখার সার্ভেয়ার রফিক ও দিলওয়ারের বিরুদ্ধে দালালদের মাধ্যমে একটি চক্র গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি দ্রুত মিসকেইস নিষ্পত্তি করে ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জমির মালিকদের সঙ্গে মোট টাকার ১৫ শতাংশ কমিশনে চুক্তি করে। যারা এ চুক্তিতে রাজি হন, তাঁদের মিসকেইস দ্রুত নিষ্পত্তি করে চেক দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, কোনো পক্ষের আপত্তি বা মামলা না থাকা সত্ত্বেও অনেক জমির মালিককে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলএ মিসকেইস ১০/২০২০-এর বাদী আকিকুর রহমান। তাঁর বাড়ি ওসমানীনগরে। সিলেট এলএ শাখা তাঁর ১১ শতক জমি অধিগ্রহণ করেছে। আনহার নামের এক ব্যক্তি ওই জমিতে আপত্তি জানান। আনহারের দাখিল করা কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, ১৯৬২ সালের দলিলে ১৯৬৫ সাল লেখা রয়েছে। এ নিয়ে তৎকালীন এলএ কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তাঁরা বিষয়টি যাচাই করতে আনহারকে জানান। এরপর থেকে দুই বছর ধরে আনহার আর এলএ অফিসে আসছেন না। শোনা যাচ্ছে, আপত্তিকারী আনহার লন্ডনে চলে গেছেন। কিন্তু জমির মালিক আকিকুর রহমান মিসকেইস ১০/২০২০-এর নিষ্পত্তির জন্য এখনো এলএ অফিসে ঘুরছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে মিসকেইসে কোনো পক্ষ না থাকলেও সেটি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘জমির মালিক হিসেবে এই জমি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করলে টাকা পেতাম। কিন্তু সরকার জমি অধিগ্রহণ করেছে। ১১ শতকের মিসকেইস দ্রুত শেষ করে আমাকে জমির টাকা দেওয়ার কথা এলএ অফিসের। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে অফিসে ঘুরছি, মিসকেইস নিষ্পত্তি হচ্ছে না। অথচ আমার মামলার কোনো পক্ষ নেই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোলাপগঞ্জের এক জমির মালিক জানান, তাঁর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এলএ শাখার নোটিশ পেয়ে তিনি নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মামলা না করলেও ক্ষতিপূরণের চেক পেতে মাসের পর মাস অফিসে ঘুরছেন। অফিসে গেলে সার্ভেয়ার ও কানুনগোরা তাঁর সঙ্গে কথাও বলতে চান না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সিলেট এলএ শাখার সার্ভেয়ার রফিক ও দিলওয়ার বিভিন্ন উপজেলায় দালাল নিয়োগ করেছেন। এসব দালাল ছয় লেনের প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জমির মালিকদের ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে দ্রুত মিসকেইস নিষ্পত্তি করে ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গোপনে চুক্তি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, যারা সার্ভেয়ার রফিক ও দিলওয়ারকে টাকা দেন, তাঁদের মিসকেইস দ্রুত নিষ্পত্তি করে চেক দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কোনো পক্ষের মামলা বা আপত্তি না থাকা কিংবা আদালতের রায় পাওয়ার পর আবেদন করা সত্ত্বেও অনেকের ক্ষতিপূরণের চেক আটকে রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাঞ্চন বরণ লস্কর বলেন, ‘যেসব জমির মালিকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, আদালতে সেই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এলএ শাখা থেকেও তাঁদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তবে আদালতে মামলা নেই, কোনো বিপক্ষ বা আপত্তিও নেই—এমন ব্যক্তিদের মিসকেইস দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। কেউ হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে তাঁর মামলা নম্বর দিলে আমরা সমস্যার সমাধান করব।’

প্রতিনিধি/আরএইচ


সর্বশেষ সংবাদ 

ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২২১৮
সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের পরিবারের বিরুদ্ধে ২ মামলা
শরণখোলায় সুন্দরবনসংলগ্ন তিন গ্রামে বাঘের আতঙ্ক, সতর্ক অবস্থানে বন বিভাগ
সিলেটের এলএ শাখায় জমি অধিগ্রহণে ১৫ শতাংশ ঘুষের অভিযোগ
জন্মদিনের নতুন লুকে চমকে দিলেন দীঘি

সর্বাধিক পঠিত 

শৃঙ্খলা ও সেবার মান সমুন্নত রাখার আহ্বান ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালকের
কুড়িগ্রামে এবি পার্টির জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি সভা
গণি-মনোয়ারা শিক্ষা ট্রাস্টের বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ১৩ নভেম্বর
তুহিন সভাপতি ও সাদেকুল সম্পাদক নির্বাচিত
তিস্তার চরে পানির সংকটে কৃষকদের টিকে থাকার সংগ্রাম
সারাদেশ- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]
Advertisement