পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জসংলগ্ন খুড়িয়াখালী, সোনাতলা ও রাজাপুর গ্রামে বাঘের উপস্থিতি ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভোলা নদীর চরে একটি মৃত গরুর দেহাবশেষ ও বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন বিভাগ, ওয়াইল্ড টিম ও কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপ (সিপিজি) মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করছে। পাশাপাশি রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রামে বাঘের উপস্থিতি দেখা যায়। পরদিন সকালে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন ভোলা নদীর চরে একটি মৃত গরু বাঘে খেয়ে ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ঘটনাস্থলে গরুর দেহাবশেষ ও বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সুন্দরবনসংলগ্ন পানির এলাকাতেও বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তিন গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর আলম হাওলাদার জানান, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছেন। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, যতদূর জানা গেছে, বাঘটি আবার সুন্দরবনে ফিরে গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাঘটি আর ফিরে আসবে না। সুন্দরবন ও লোকালয় পাশাপাশি হওয়ায় মাঝেমধ্যে বাঘ ও হরিণ লোকালয়ে প্রবেশ করে। লোকালয়ে বাঘের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ায় মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাতে চলাচল সীমিত রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই বাঘের ক্ষতি করা যাবে না। কোথাও বাঘ দেখা গেলে দ্রুত বন বিভাগকে জানানোর জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।
সুন্দরবনসংলগ্ন তিন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বাঘের আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারির পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ