মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া হ্যাক করার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সন্দেহের তীর প্রভাবশালী কিছু ঠিকাদারের দিকে। টেন্ডার প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ ঠিকাদাররা এতে অংশ নিতে পারছেন না। স্থানীয়দের ধারণা, প্রভাবশালী কোনো মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় চিকিৎসাসামগ্রী কেনা যাচ্ছে না। এতে হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। চরম বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনে তৎপরতা দেখা যায়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি আবু নাঈমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা মুঠোফোনে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের দাবি, টেন্ডার হ্যাকের পেছনে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট জড়িত। তারা কৌশলে কাজটি বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা এ কাজ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কেনার জন্য প্রথম দফায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর ই-টেন্ডার আহ্বান করেন জেলা সিভিল সার্জন। অনলাইনে দরপত্র আহ্বানের পরপরই ই-টেন্ডারের ওয়েবসাইট হ্যাক করে দুর্বৃত্তরা। পরে বাধ্য হয়ে আগের টেন্ডার বাতিল করে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এবারও একইভাবে অনলাইনে টেন্ডার প্রক্রিয়া হ্যাক করা হয়। এতে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন মাস পর্যন্ত জেলা হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। ওই মাসেই সরবরাহ করা সামগ্রীর মজুত শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
টেন্ডার হ্যাকের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদীন কমল ১৫ দিনের ছুটিতে গেছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. খলিলুজ্জামান। তিনি আরও জানান, টেন্ডার হ্যাকের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তিনি জানেন না। তবে টেন্ডার হ্যাক হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। সিভিল সার্জন ১৫ দিনের ছুটিতে রয়েছেন এবং তিনি এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ফিরে এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন।
এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, এ বছরের টেন্ডার প্রক্রিয়া কারিগরি ত্রুটির কারণে সম্পন্ন হয়নি। এ কারণে আগামীতে ওষুধের সংকট দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।
প্রতিনিধি/আরএইচ