গ্যাসের সংকট ও জ্বালানির বাড়তি ব্যয়ের প্রভাবে নরসিংদীতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠের খড়ি, লাকড়ি ও গোবরের ঘুঁটের ব্যবহার বাড়ছে। বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি কারখানা, ডাইং ও সাইজিং কারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও বাড়ছে এসব জ্বালানির কদর।
নরসিংদীর গ্রামাঞ্চলে রাস্তার দুই পাশে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে গোবরের ঘুঁটে ও শুকনো গাছের লাকড়ি। শহরের ব্যবসায়ীরা গ্রাম থেকে এসব খড়ি ও ঘুঁটে কিনে এনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে খড়ি ও লাকড়ির ব্যবসা।
নরসিংদী শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে কাঠের খড়ির দোকান। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, জেলার বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন খড়ির দোকান গড়ে উঠেছে। প্রতিটি দোকানে প্রতিদিন হাজার থেকে লাখ টাকার খড়ি বিক্রি হয়। তবে এটি ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা আনুমানিক হিসাব।
নরসিংদী সদর উপজেলার মেঘনা নদীসংলগ্ন চাঁদের পাড়া, বর্দ, বথুয়াদী ও চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে গেলে চোখে পড়ে গোবরের ঘুঁটে ও শুকনো কাঠের স্তূপ। রাস্তার দুই পাশে সারি করে রাখা হয়েছে এসব জ্বালানি। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ব্যবসায়ীরা গ্রাম থেকে ১০০টি ঘুঁটে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যান। পরে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করেন। ফলে গ্রাম থেকে শহর—দুই পর্যায়েই গড়ে উঠেছে খড়ি ও লাকড়ির বেচাকেনার বাজার।
মাধবদীর গরু বাজার এলাকার খড়ির ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া বলেন, তাঁর দোকানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মণ খড়ি বিক্রি হয়। এতে দৈনিক বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। তিনি বলেন, বর্তমানে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে খড়ির ক্রেতা বেড়েছে। আগে যারা অন্য জ্বালানিতে রান্না করতেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের এমন অনেকেই এখন খড়ি দিয়ে রান্না করছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে খড়ির বেচাকেনা বেড়েছে। মৃত আমগাছ ছাড়াও মেহগনি, আকাশমণি ও ইউক্যালিপটাস গাছের কাঠের খড়ির চাহিদা রয়েছে। এসব কাঠের লাকড়ি শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন ডাইং ও সাইজিং কারখানায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া হোটেল ও তন্দুর রুটির দোকানেও রান্নার কাজে এসব লাকড়ি ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতারাও প্রয়োজন অনুযায়ী খড়ি কিনছেন। সব মিলিয়ে খড়ির ব্যবসায় ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।
মাধবদীর নওপাড়া গ্রামের শাহানা রহমান বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে এখন খড়ি দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এর চাহিদা বাড়ছে।
গ্যাসের সংকট ও জ্বালানির বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে নরসিংদী, মাধবদী ও আশপাশের চরাঞ্চলে খড়ি ও গোবরের ঘুঁটের ব্যবসায় নতুন গতি এসেছে। তবে বিকল্প জ্বালানির ওপর মানুষের নির্ভরতা কতটা বাড়বে, তা গ্যাসের সরবরাহ, জ্বালানির মূল্য ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ