একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় একাকার হয়ে যায় সড়ক। কোথাও তৈরি হয় বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও জমে থাকে হাঁটুপানি। বর্ষায় এসব পথে পায়ে হেঁটে চলাচলই কঠিন হয়ে পড়ে। মোটরসাইকেল, ভ্যান বা রিকশা নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাদুল্লাপুরে গেজেটভুক্ত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৬৫৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২৩১ কিলোমিটার সড়ক ইতোমধ্যে পাকাকরণ করা হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় আরও ৩০ কিলোমিটার সড়কের পাকাকরণকাজ চলমান। তবে এখনও প্রায় ৯২ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, গেজেটভুক্ত ৯২ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বাইরে উপজেলায় আরও প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অনথিভুক্ত কাঁচা রাস্তা রয়েছে। সরকারি কোনো প্রকল্পের আওতায় না থাকায় এসব রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।
বিশেষ করে ৪ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের কয়েকটি সড়কের অবস্থা নাজুক। গোপালপুর ছকু হাজির বাড়ি থেকে পূর্ব দিকে বাঁধের মাথায় হায়দারের দোকান পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার, খোর্দ্দ রসুলপুর মোংলা বন্দর থেকে উত্তর দিকে কফিল মুন্সীর বাড়িঘেঁষে হামিদ মণ্ডলের ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এবং পাতিল্যাকুড়ার হামেদার মোড় থেকে উত্তরে খোকা সরদারের বাড়ি ঘেঁষে চকদাড়িয়া উত্তরপাড়ার আকবর মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক কাঁচা।
স্থানীয় তৌহিদুল ইসলামসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় ভোগান্তি বেড়ে যায়। কাদায় ভ্যান ও অটোরিকশা আটকে পড়ে। মোটরসাইকেল ও সাইকেলে চলাচলের সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অনেক সময় কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারে নেওয়াও সম্ভব হয় না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কগুলো কবে পাকাকরণ হবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এসব সড়ক দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শুভ বলেন, “আমাদের ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তাগুলো পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এসব রাস্তা পাকা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।”
সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেনাজ জানান, উপজেলার কাঁচা রাস্তাগুলো বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পাকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ