চাঁদা না দেওয়ায় ঢাকার আশুলিয়ায় একটি সোয়েটার কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কারখানার মালিক মো. আহাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কারখানা মালিক আহাদুজ্জামান বলেন, আশুলিয়া থানাধীন মধ্য গাজীরচট রশিদ মার্কেট এলাকায় জমি কিনে সেড নির্মাণের মাধ্যমে বিগত ১৭ বছর ধরে তিনি সোয়েটার কারখানা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি স্থানীয় ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে কবির হোসেন শিশির নামে এক ব্যক্তি তার দলবল নিয়ে কারখানা পরিচালনায় নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে।
তিনি আরও জানান, দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় গত ২২ অক্টোবর সকালে আশুলিয়া ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয়ে মো. সানোয়ারের নেতৃত্বে কবির হোসেন শিশির, মোখলেছ, জালাল, তোফাজ্জল হোসেন, সোহেল খন্দকার ও রকিসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৪০ থেকে ৫০ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কারখানায় প্রবেশ করে। তারা কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা কারখানা থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের সুতা, সোয়েটারের বডি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে আলতাফ নামে কারখানার এক কর্মচারীকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে পরদিন পুনরায় সন্ত্রাসীরা কারখানায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহাদুজ্জামান জানান, চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগ পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সুরক্ষা পেতে আশুলিয়া থানায় মামলা করতে গেলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা না নিয়ে তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
বর্তমানে নিজের ও কারখানার শ্রমিকদের জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বিচার নিশ্চিত করা এবং সুরক্ষার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দেশবার্তা/একে