বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যয় নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ

বিশেষ প্রতিনিধি

জাতীয়

বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে কেবল পরিচালন ব্যয় হিসেবে না দেখে মানুষের জীবন, মূল্যবান সম্পদ ও জাতীয় অগ্রগতি সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ

2026-10-28T17:35:54+06:00
2026-10-28T17:35:54+06:00
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
জাতীয়
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যয় নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম 
⏲
বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে কেবল পরিচালন ব্যয় হিসেবে না দেখে মানুষের জীবন, মূল্যবান সম্পদ ও জাতীয় অগ্রগতি সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল শুধু দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয় নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, যাত্রীদের আস্থা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিমানবন্দর, টার্মিনাল ও এয়ার নেভিগেশন ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এসব উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থাও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জাতীয় বিমান সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা শুধু নিয়ম মেনে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুদৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

এ বছরের সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘টেকনোলজি, ট্রেনিং অ্যান্ড টিমওয়ার্ক: ক্রিয়েটিং আ ফিউচার-রেডি সেফটি মাইন্ডসেট’। এ প্রতিপাদ্যের আলোকে ভবিষ্যৎ উপযোগী ফ্লাইট সেফটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, দলগত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সেমিনারে বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ এবং নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে ২১টি দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, মানুষের জীবন ও মূল্যবান সম্পদের সুরক্ষা, কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নে ফ্লাইট সেফটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ক্রমাগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুদৃঢ় উড্ডয়ন নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা, পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নেন। প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

এ ছাড়া সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তিন দিনব্যাপী এ সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীরা ফ্লাইট সেফটির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করেন। আলোচনায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক উপাদান (হিউম্যান ফ্যাক্টর), সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানব-প্রযুক্তির সমন্বয়, দলগত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাচর্চা, উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

দেশবার্তা/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

সাংবাদিক দীপু শিকদারকে হুমকি, ক্র্যাবের উদ্বেগ
উন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত
বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যয় নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ প্রাণহানি, মোট ৪০৯

সর্বাধিক পঠিত 

সিলেটের এলএ শাখায় জমি অধিগ্রহণে ১৫ শতাংশ ঘুষের অভিযোগ
জনবল সংকটে ধুঁকছে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন
শৃঙ্খলা ও সেবার মান সমুন্নত রাখার আহ্বান ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালকের
সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি
সাধারণ উপকরণে জিয়াবাড়ির ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তৈরি করলেন গাইবান্ধার যুবক
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]
Advertisement