স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি ও পেছন থেকে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষের হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মোর ও অর্গাস শহরের মধ্যবর্তী স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘এডিআইএফ’ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
স্প্যানিশ পাবলিক ব্রডকাস্টার টিভিই ও সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদ থেকে সেভিয়াগামী ইরিও কোম্পানির একটি ট্রেনের সঙ্গে রেনফে কোম্পানির আরেকটি ট্রেনের এ সংঘর্ষ হয়। একই লাইনে থাকা একটি ট্রেন অপরটিকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ধাক্কা দিলে ট্রেন দুটির বগি লাইনচ্যুত হয়ে একপাশে কাত হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার শিকার হওয়া দুটি ট্রেনে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ভ্রমণ করছিলেন।
দুর্ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া যাত্রী জেসুস জেরোনিমো (৫৪) জানান, ভয়াবহ ওই ধাক্কার পর ট্রেনের যাত্রীরা ভেতর থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান। পরে ধীরে ধীরে বাইরে এসে তারা দেখতে পান ট্রেন একপাশে কাত হয়ে আছে এবং চারপাশে বহু আহত মানুষ ভয়ে কাঁপছেন।
কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, উদ্ধারকাজ চলার কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাকর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
উরদা পৌরসভার মেয়র ম্যানুয়েল গালান জানান, আহতদের আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় একটি ক্রীড়াহল প্রস্তুত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর রাজধানী মাদ্রিদের সঙ্গে সিউদাদ রিয়াল এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ার মধ্যকার সমস্ত ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে এডিআইএফ।
এদিকে এ ঘটনায় গভীর শোক ও মর্মাহত প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী স্পেনে ইউরোপের বৃহত্তম দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত হয়েছিল, যা ২০১৩ সালের পর দেশটিতে সবচেয়ে বড় ট্রেনের প্রাণহানি ছিল। বর্তমান দুর্ঘটনার কারণ ও সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে।