নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন শ্রেণিতে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণিতে বোর্ড নির্ধারিত ফি যথাক্রমে ২৩৩ ও ২৮২ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ ও ৪০০ টাকা। নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের নির্ধারিত ফি ৯৮ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা।
বার্ষিক ভোজ ও টিফিন বরাদ্দের নামেও অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বার্ষিক ভোজের জন্য ভুয়া ভাউচার তৈরি করে প্রায় ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। অথচ এ বাবদ ছাত্রীদের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছিল।
টিফিন খাতে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা হিসেবে বছরে ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মানসম্মত টিফিন দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মাত্র ৯ টাকা ৫০ পয়সা মূল্যের টিফিন কিনে ভাউচারে ১৮ টাকা দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। গত ঈদুল ফিতরের পর টানা ১৩ দিন কোনো টিফিন না দিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ২ লাখ ২১ হাজার ৫৮৮ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা-২০২৫-এর প্রায় ৬ লাখ টাকা এবং পরীক্ষা কমিটির নামে প্রায় ৭০ হাজার টাকার হিসাব মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসএসসির কর্মচারীদের পাওনা ৪ লাখ টাকা পরিশোধ না করার পাশাপাশি ষষ্ঠ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে অতিরিক্ত আদায় করা ৬০ হাজার টাকার তথ্য গোপন রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্রের জন্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। দরিদ্র কল্যাণ তহবিল থেকে গত দুই বছরে শিক্ষার্থীদের কোনো সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিদ্যালয়ের আইসিটি ফান্ডে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ক্রীড়া ফান্ডে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও এসব খাতে কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। গত পাঁচ বছর ধরে ম্যাগাজিন প্রকাশনার জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও কোনো ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ল্যাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকা, টয়লেট অপরিষ্কার থাকা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত দুটি ক্লাসের পরিবর্তে কোনো ক্লাস নেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ